যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে শেষ আটের টিকিট কাটার এই লড়াইয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল জালের দেখা পায়নি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচটি গোলশূন্য সমতায় শেষ হলে রেফারির শেষ বাঁশির পর খেলা গড়ায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে। লটারির মতো ভাগ্য নির্ধারণী এই লড়াইয়ে প্রথম শটটি নিয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া।
টাইব্রেকারের শুরুতেই দুই দলই চমৎকার দক্ষতায় নিজেদের প্রথম শটগুলো থেকে গোল তুলে নিতে সক্ষম হয়। তবে ম্যাচের ভাগ্য সুইজারল্যান্ডের দিকে হেলে পড়ে যখন তাদের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে কলম্বিয়ার একটি পেনাল্টি শট রুখে দেন। যদিও মাঝে সুইজারল্যান্ডের মানুয়েল আকানজি নিজের শটটি পোস্টের বাইরে মেরে বসেন, যার ফলে নাটকীয়তা আরও বেড়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সুইজারল্যান্ডের হয়ে জয়সূচক শটটি নেন রুবেন ভার্গাস। কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করে ভুল দিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়াতেই উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো সুইস শিবির।
পেনাল্টি শ্যুটআউটে দুই দলেরই অতীত ইতিহাস বেশ তেতো ও হতাশার। এর আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ইউক্রেনের কাছে ৩-০ ব্যবধানে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল সুইজারল্যান্ডকে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে একইভাবে শুটআউটে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল কলম্বিয়ার। তবে এবার সেই পুরোনো দুঃখ ভুলে শেষ হাসির দেখা পেল সুইজারল্যান্ড। ইতিহাস গড়া এই জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে আসছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামী শনিবার রাতে কানসাস সিটিতে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মেসির মুখোমুখি হবে রূপকথা তৈরি করা এই সুইজারল্যান্ড।