মধ্যরাতের এই হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলায় কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির খার্গ দ্বীপের জ্বালানি ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো কেঁপে ওঠে। অপরদিকে, ইরানি বার্তা সংস্থা আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সিরিক অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মিনাব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী মূলত সিরিকের মাছ ধরা ও বাণিজ্যিক জেটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এই হামলার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতকারী তিনটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে বিপজ্জনক হামলা চালায়। এই ঘটনাকে চলমান যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট ও মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে মার্কিন প্রশাসন। সেন্ট্রাল কমান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌপথে এই ধরনের উসকানিমূলক হামলা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এর জবাব দিতেই ইরানের অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানা হচ্ছে, যাতে দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধন করা যায়।
এদিকে, এই চরম উত্তেজনার মাঝেই বুধবার ইরাকের নাজাফ এবং পবিত্র নগরী কারবালায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানের জন্য কফিন নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শিয়া প্রধান দেশ ইরাকেও খামেনি একজন অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় নেতা এবং অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে অত্যন্ত সমাদৃত ছিলেন। এই জানাজায় লাখো ইরাকি শিয়া মুসলমান অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খামেনির শেষ বিদায় ও জানাজা উপলক্ষে বুধবার ইরাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে খামেনির বিদায়লগ্নে যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতাকে আবারও এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।