মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন রণক্ষেত্র। মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের জবাবে এক歩ও পিছিয়ে না থাকার কঠোর বার্তা দিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান হামলার পরপরই কাতার, বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানি ড্রোন ও মিসাইলের এই অতর্কিত ও উপর্যুপরি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক থমথমে এবং চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
এই পাল্টাপাল্টি সংঘাতের জেরে বাহরাইনের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাধারণ নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সাথে সবাইকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, এই সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানি সেনাদের মিসাইল হামলায় কেঁপে উঠেছে। হামলায় ঘাঁটিটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বাহরাইনের রাজধানী মানামায় মোতায়েন করা মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী 'পঞ্চম নৌবহর' বা ফিফথ ফ্লিটের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে নিখুঁত নিশানা হেনেছে ইরান। হামলার পর পরই ওই সামরিক ঘাঁটি থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে, যা সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলার জবাবেই ইরান এই বড় মাপের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে তারা উল্লেখ করেছে, এই সংঘাতের একদম শুরুর দিকে হামলার তীব্রতা যেমন ছিল, বর্তমান আক্রমণটির গতিপ্রকৃতি সেই তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত। তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যুহ ভেদ করে ইরানের এই আক্রমণ পেন্টাগনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
এই অভিযানের বিষয়ে ইরানের এলিট ফোর্স 'ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড' (আইআরজিসি) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের গোলেস্তান প্রদেশে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু লক্ষ্য করে ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল। সার্বভৌমত্বের ওপর এই নগ্ন হামলার প্রতিবাদে এবং অবকাঠামো ধ্বংসের উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতেই কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এই ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা ও মার্কিন আগ্রাসন রুখে দিতে ইরান যেকোনো সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। দুই পরাশক্তির এই মুখোমুখি অবস্থানে গোটা বিশ্বের চোখ এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে।