ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

ইরানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পানির পাম্প ধ্বংস, হতাহত ৫


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১১:৪৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মাঝেই এবার ইরানের একটি বেসামরিক অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশটির মাহশাহর শহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই হামলায় অন্তত একজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ-এর বরাতে এই রক্তক্ষয়ী হামলার খবরটি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যা অঞ্চলটির যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খুজেস্তান প্রদেশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাহশাহরের ওই কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনটি লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্টভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই একজনের প্রাণহানি ঘটে। দেশটির নিরাপত্তা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার ভোরে যখন সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই এই বিধ্বংসী হামলাটি চালানো হয়। নিহত ব্যক্তি ওই পাম্পিং স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসাসেবা বিভাগের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

মাহশাহরের এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে ইরানের স্থানীয় বার্তাসংস্থা মেহের ও ফার্স নিউজ এই বিস্ফোরণের খবর দিলেও শুরুতে তারা এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি।

তবে এর কিছুক্ষণ পরই কেশম দ্বীপের গভর্নর হোসেইন আমির এই রহস্যময় বিস্ফোরণের জট খোলেন। তিনি জানান, শত্রুপক্ষ থেকে ছোঁড়া প্রায় ১০ থেকে ১১টি সন্দেহভাজন ক্ষেপণাস্ত্র দ্বীপটিতে সরাসরি আঘাত হেনেছে। বার্তাসংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গভর্নর আমির আরও স্পষ্ট করেন যে, কেশম দ্বীপে চালানো সমস্ত হামলাই মূলত সামরিক অবকাঠামোকে টার্গেট করে করা হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত সেখানে সামরিক স্থাপনার ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ নাগরিক বা সেনা সদস্য হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রকৃতপক্ষে, গত রাত থেকেই ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে জল ও আকাশপথে একযোগে ব্যাপক আকারে আক্রমণ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর এই আগ্রাসী অভিযানের জবাবে ইরানও বসে থাকেনি। পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে তেহরান উপসাগরীয় আরব অঞ্চলের পাঁচটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক যুদ্ধকালীন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর