সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 33
ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবায় অসামান্য কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা এবং অনন্য সেবার মান প্রদর্শন করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মেহেদী হাসান। তাড়াশ উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ এর বিশেষ আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ের কাজের গুণগত মান ও অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে উপজেলার শ্রেষ্ঠদের মাঝে সম্মাননা ও বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হিসেবে মেহেদী হাসানের হাতে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ক্রেস্ট ও প্রশংসাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাড়াশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসান দীর্ঘদিন ধরে তাড়াশ উপজেলার মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তার অর্পিত সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দেওয়া, গ্রামীণ মা ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় দম্পতিদের উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন।
প্রতিটি কর্মদিবসে গ্রামীণ জনপদে ঘুরে ঘুরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে তার নেওয়া সচেতনতামূলক উদ্যোগগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর তাকে উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ কর্মক্ষম কর্মকর্তা হিসেবে এই গৌরবময় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হলো।
তাড়াশ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই জনসংখ্যা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আরও বেশি আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে কর্মক্ষেত্রে নিজের এই অনন্য ও গৌরবময় অর্জনে মেহেদী হাসানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের সুধী সমাজ। তাঁর এই সম্মাননা প্রাপ্তির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী ও সহকর্মীরা দৃঢ় আশা প্রকাশ করে বলেন যে, সরকারি কাজের এই অনন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তাকে আগামী দিনে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে এবং ভবিষ্যতেও গ্রামীণ সাধারণ মানুষের কল্যাণে তাঁর এই নিঃস্বার্থ ও সেবামূলক মানবিক কার্যক্রম সমান গতিতে অব্যাহত থাকবে।