মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নিয়েছে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধ। মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে এবার কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। আকস্মিক এই হামলার পর দেশ দুটিতে যুদ্ধকালীন সতর্কতার সাইরেন বেজে ওঠে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে সক্রিয় করা হয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই চরম উত্তেজনার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
কুয়েতের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের আকস্মিক এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখে দিতে তাদের প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সাথে নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে।
মূলত এই হামলার সূত্রপাত ঘটে ইরানের কিশ ও কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের উপর্যুপরি হামলার পর। মার্কিন সেনাবাহিনী গত তিন দিনে হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপগুলোতে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে কেশম দ্বীপটি ইরানের সামরিক কৌশলের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে তেহরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। নিজেদের এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলার জবাব দিতেই পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন মিত্রদের ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ডিমোনা শহরে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইসরায়েলের দিকে তেহরান চোখ তুলে তাকালে অতীতে যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী ও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই ছায়াযুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্যে এক সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।