ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

আজকের পরীক্ষা স্থগিত না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের হুঁশিয়ারি


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:০৩ এএম

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। বুধবারের নির্ধারিত পরীক্ষা অবিলম্বে স্থগিত করা না হলে ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ’ করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। তিন দফা দাবি আদায়ে মঙ্গলবার দিনভর রাজধানীর রাজপথ কাঁপিয়ে রাতে এই চরম আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আগে ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মিরাজ এক তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন। এর আগে রাত সোয়া ৮টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে ওই এলাকার সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাদের মূল ক্ষোভের কারণ হলো, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও জোরপূর্বক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষামন্ত্রী তাদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে অপমান করেছেন। মিরাজ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাদের কোনো দাবিই মানা হয়নি। রাতের মধ্যেই বুধবারের পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা না এলে তারা লংমার্চ করতে বাধ্য হবেন। সরকার পরীক্ষা স্থগিত না করলে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়েও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বাধ্য হয়ে পরীক্ষায় বসলে অপূর্ণ মন নিয়েই তারা লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবেন।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন বটতলা গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়কের দুই পাশ বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সংসদ ভবনে প্রবেশ করলেও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের আলোচনা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তাল ছিল রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা। বেলা পৌনে ১২টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় এবং উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সামনে দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে কিছুটা ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর নীলক্ষেত ও পলাশী হয়ে দুপুর আড়াইটায় ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা।

সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানকালে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান তাদের আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পুনরায় সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ফিরে আসেন। অন্যদিকে উত্তরায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীরাও বুধবার সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়ে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সড়ক ছাড়েন।

রাজপথে দিনভর নানা স্লোগানে মুখর ছিলেন আন্দোলনকারীরা। প্ল্যাকার্ড হাতে তারা ‘তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে—শিক্ষামন্ত্রী’, ‘দফা এক, দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘জ্বালো রে জ্বালো—আগুন জ্বালো’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো—চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা; বৈরী আবহাওয়ায় গত ১৩ জুলাই যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া; এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর