বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায়ের পর রেফারিংয়ের মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ে দেশম। তবে রেফারিকে কাঠগড়ায় দাঁড়ালেও স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে ভুল করেননি বিদায়ী এই ফরাসি মাস্টারমাইন্ড। তিনি অকপটে মেনে নিয়েছেন, মাঠের লড়াইয়ে স্প্যানিশরাই যোগ্য দল হিসেবে ফাইনালে পা রেখেছে।
ড্যালাসের সেমিফাইনালে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি হজম করে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। লুকা দিনিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বক্সে থাকা লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ফরাসি ফুটবলাররা হ্যান্ডবলের জোরালো দাবি তুললেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি তা নাকচ করে দেয়। ম্যাচ শেষে এই সিদ্ধান্ত ও সামগ্রিক রেফারিং নিয়ে দেশম বলেন, ‘রেফারিং নিয়ে এখন কিছু বললে সবাই ভাববে হারের পর কাঁদুনি গাইছি কিংবা অজুহাত খুঁজছি। কিন্তু নিরপেক্ষভাবে ভাবুন, এই রেফারির কি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ পরিচালনা করার যোগ্যতা ছিল? শুধু পেনাল্টি নয়, পুরো ম্যাচে এমন অনেক সিদ্ধান্ত ছিল যা প্রশ্নবিদ্ধ।’
অবশ্য হারের জন্য কেবল রেফারিকে দোষ না দিয়ে নিজেদের যান্ত্রিক ও কৌশলগত ভুলকেও দায়ী করেছেন দেশম। তিনি জানান, প্রযুক্তিগত দিক থেকে ফরাসিরা স্পেনের চেয়ে ঢের পিছিয়ে ছিল। কিছু ভুল পাস ও টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে কিলিয়ান এমবাপেরা ভালো কোনো আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেননি। বিদায়ী এই কোচ আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়রা ভীষণ হতাশ। তবে আমাদের মেনে নিতেই হবে যে স্পেন আজ দুর্দান্ত খেলেছে এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।’ ফরাসিদের বিশ্বকাপ মিশন এখনই শেষ হচ্ছে না, আগামী ১৮ জুলাই তাদের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামতে হবে।
ফ্রান্সের মিডফিল্ডার রায়ান শেরকিও কোচের সুরেই কথা বলেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্বীকার করেন, স্প্যানিশরা সহজেই বলের দখল ফিরে পাচ্ছিল, যা ফরাসিদের ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়েছে। বিরতির সময় কোচের ইতিবাচক বার্তার কথা উল্লেখ করে শেরকি বলেন, ‘কোচ আমাদের বিশ্বাস রাখতে বলেছিলেন যে সুযোগ আসবে। আমরা একটা গোলের জন্য মরিয়া ছিলাম, কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় কাজটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে ছোট ছোট ভুলই শেষ পর্যন্ত মেগা পার্থক্য গড়ে দেয়।’