ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

বঙ্গোপসাগরে দুই নৌকাডুবি: ৫৩০ রোহিঙ্গার মৃত্যুর শঙ্কা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:৫১ পিএম

বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার উপকূলে পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় প্রায় ৫৩০ জন রোহিঙ্গার সলিল সমাধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর পক্ষ থেকে যৌথভাবে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের বঙ্গোপসাগরীয় উপকূল থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করেছিল। এর মধ্যে একটি নৌকায় ২৫০ জন এবং অন্যটিতে ২৬০ জনের মতো আরোহী ছিলেন। নৌকার যাত্রীদের মধ্যে মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ডের রোহিঙ্গার পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ শরণার্থী শিবির থেকে সুকৌশলে পালিয়ে আসা বেশ কিছু রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু ছিলেন।

রাখাইন থেকে সাগরে ভাসার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাওয়াদি উপকূলের কাছে এসে নৌকা দুটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইরাওয়াদি উপকূলে পৌঁছানোর পর নৌকা দুটি পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে প্রথমে ২৫০ জন আরোহী নিয়ে প্রথম নৌকাটি এবং এর কিছু সময় পর দ্বিতীয় নৌকাটিও সাগরে তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত ডুবে যাওয়া দুটি নৌকার কোনো যাত্রী জীবিত উদ্ধার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি।

নৌকা দুটি ঠিক কোন দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশে পৌঁছানোই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। কারণ সাধারণত এই রুটটি ওই দেশগুলোর দিকেই গেছে।

জাতিসংঘের বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাস নৌ চলাচলের জন্য উপযুক্ত সময় ধরা হয়। বছরের বাকি সাত মাস আবহাওয়া মারাত্মক দুর্যোগপূর্ণ থাকে এবং সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকে। এই হতভাগ্য রোহিঙ্গারা বছরের এমন এক চরম প্রতিকূল ও অশান্ত সময়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রায় ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিলেও নাগরিকত্ব দেয়নি। এই দীর্ঘস্থায়ী ক্যাম্প জীবন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে মুক্তি পেতে অনেক রোহিঙ্গাই দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন। ইউএনএইচসিআর-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা এভাবে সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন পথেই প্রাণ হারিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর