ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন: ইরানে বিধ্বংসী হামলায় অবরুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১২:২০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমায় এখন শুধুই বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের দামামা। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির সমস্ত হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো দুই পক্ষের মধ্যে চলেছে রক্তক্ষয়ী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি আঘাত। ওয়াশিংটনের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানের মূল ভূখণ্ডের সামরিক অবকাঠামোগুলোকে গুঁড়িয়ে দিতে ব্যাপক আকারে আক্রমণ শানিয়েছে। এর জবাবে চুপ করে থাকেনি তেহরানও; তারা কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠিয়ে পাল্টা আঘাত হেনেছে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের নতুন তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন ড্রোন এবং সাগরে অবস্থানরত শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ একযোগে এই অভিযানে অংশ নেয়। হামলায় মূলত ইরানের সামরিক শক্তিকে পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশটির কৌশলগত নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, মাটির নিচে অবস্থিত গোপন বৃহৎ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার বিভিন্ন স্থাপনাকে নিখুঁতভাবে নিশানা করা হয়েছে। সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করেছে যে, হোয়াইট হাউসের সর্বোচ্চ মহলের তথা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশেই ইরানের বিরুদ্ধে এই বিশেষ সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। শুধু আকাশপথে বোমাবর্ষণই নয়, ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক যোগাযোগকে পঙ্গু করতে দেশটির প্রধান প্রধান বন্দরগুলোকে ঘিরে কঠোর নৌ অবরোধও কার্যকর করে রেখেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এই মুহূর্তে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ওয়াশিংটনের ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে মোতায়েন রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধ্বংসী আক্রমণের শিকার হওয়া ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে নতুন করে বড় ধরনের হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আবার বিমান হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয় প্রাদেশিক প্রশাসন সাধারণ নাগরিকদের ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অপ্রয়োজনীয় চলাচল থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জরুরি নির্দেশ জারি করেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই মার্কিন হামলায় দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ও অবকাঠামোর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণে জরুরি মূল্যায়ন চালাচ্ছে প্রশাসন। একই সাথে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়কের বিকল্প হিসেবে সাময়িক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, মার্কিন বাহিনীর সর্বশেষ এই পৈশাচিক হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে এই সংঘাতের আঁচ লেগেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য মিত্র দেশগুলোতেও। বিশেষ করে বাহরাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠলে পুরো দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাইরেন বাজার পরপরই দেশটির সাধারণ বাসিন্দাদের অনতিবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেয় বাহরাইন কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতে ছড়ানো মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেছে। ইরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, তাদের নিখুঁত পাল্টা অভিযানে কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ড্রোন হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে তেহরান জানায়, কুয়েতের মাটিতে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্যাম্প উদাইরি’ এবং ‘আলী আল সালেম’ ঘাঁটির প্রধান প্রধান গোলাবারুদ ডিপো, প্রশাসনিক সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তারা সফলভাবে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এর পাশাপাশি জর্ডানের বুকে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহিনী ও সেনাদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি ‘মুওয়াফফাক সালতি’ বা আল আজরাক বিমানঘাঁটিতেও সফল ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের ড্রোনগুলো জর্ডানের ওই ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর বিশাল জ্বালানি সংরক্ষণাগার বা ফুয়েল ডিপো পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরানের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের বিদেশি পদক্ষেপ বা আগ্রাসনের জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ভবিষ্যতে আরও বেশি কঠোর ও নির্মম প্রতিক্রিয়া দেখাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক অনিয়ন্ত্রিত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর