প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরপরই বার্নহ্যাম ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী সোমবার তিনি বর্তমান বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার হাল ধরবেন। তিনি দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে 'রিফর্ম ইউকে'-এর ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জগুলো কঠোরভাবে মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বার্নহ্যামের দলীয় প্রধান হওয়ার গৌরবময় মুহূর্তটি উদযাপন ও নিশ্চিত করতে শুক্রবার এক বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সম্ভাব্য এই নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে এবং নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিশাল উপস্থিতিতে বার্নহ্যাম বলেন, "আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সবটুকু শক্তি দেশ ও দেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত করব। এর মাধ্যমে ব্রিটেনের জনগণ আবারও তাদের সুদিন ও আশার আলো খুঁজে পাবে।"
লেবার পার্টির বর্তমান আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন সময়ে হওয়া জনমত জরিপেও লেবার সমর্থকদের কাছে তিনি শীর্ষ সারির রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। দীর্ঘ এক দশক ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সফল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তাঁর এই দীর্ঘ প্রশাসনিক দক্ষতা এবং উত্তরের অঞ্চলের মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাজনীতিতে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা উত্তরের রাজা নামেও বেশ পরিচিত।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লি আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন বার্নহ্যাম। ওই সময়ে তিনি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছেন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে দলীয় প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে তিনি আরও দুবার অংশ নিয়েছিলেন। তবে ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ড এবং ২০১৫ সালে জেরেমি করবিনের কাছে তিনি পরাজিত হন। অবশেষে তৃতীয়বারের চেষ্টায় সফল হয়ে ব্রিটেনের সর্বোচ্চ ক্ষমতার মসনদে বসতে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ এই দূরদর্শী রাজনীতিবিদ।