মোহাম্মদ বাকী অনীক ,কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামে রুমি আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রুমির শ্বশুরবাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করলেও, রুমির পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ—এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
নিহত রুমি আক্তার উপজেলার মালিগাঁও ইউনিয়নের কালাসোনা গ্রামের মৃত আলমাছ মিয়ার মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে বারোপাড়া ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের মো. মোতালেব দেওয়ানের ছেলে মো. লিটন মিয়ার সঙ্গে রুমির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তাঁদের সংসারে জায়ান নামের চার বছর বয়সী একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তান রয়েছে। স্বামী লিটন মিয়া দীর্ঘদিন সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে তিনি ছুটি নিয়ে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।
নিহতের মা নাছিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বুকফাটা হাহাকার করে বলেন, "রুমি আমার একমাত্র আদরের মেয়ে ছিল। জামাই দেশে আসার পর থেকেই মেয়ের ওপর মানসিক নির্যাতন করা হতো। এভাবে অকালে মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এখন আমার এই এতিম নাতিটাকে কে দেখবে?"
এদিকে ঘটনার পর থেকে রহস্যজনক কারণে নিহতের স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘরের ভেতর মরদেহ রেখে পরিবারের অন্য সদস্যরা গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "খবর পেয়ে দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমানসহ পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।"