মাঠে হরহামেশা সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার কারণে ফুটবলপ্রেমীদের ট্রল আর উপহাসের শিকার হতে হতো তাকে। রসিকতা করে নামের আগে তকমা জুড়ে দেওয়া হয়েছিল ‘লর্ড’। তবে সমালোচকদের সেই সব কটাক্ষের জবাব দেওয়ার জন্য এর চেয়ে বড় মঞ্চ আর হতে পারত না। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চূর্ণ করে স্পেনের শিরোপা জয়ের রূপকার আর কেউ নন, সেই বহুল সমালোচিত ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। একের পর এক আক্রমণ করেও যখন আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণদুর্গ ভাঙতে পারছিল না লা রোহারা, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এলেন এই স্প্যানিশ তারকা।
বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১টায় শুরু হওয়া এই হাইভোল্টেজ ফাইনালে প্রথমার্ধে স্পেনের আক্রমণভাগের চেনা ধার কিছুটা কম থাকায় ম্যাচের ৫৯ মিনিটে তোরেসকে মাঠে নামানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নেন স্পেনের মাস্টারমাইন্ড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে তোরেসও মাঠে নেমে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখেন। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে না পাওয়ায় খেলা অমীমাংসিতভাবে শেষ হয় এবং ফাইনাল গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল। অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হওয়ার পর ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডান প্রান্ত থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল ডি-বক্সে প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকার ও চোখধাঁধানো এক শটে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে দেন তোরেস। গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির। তার এই দুর্দান্ত ও নিখুঁত গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেনের।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের সোনালী বিশ্বকাপ শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলল স্পেন। আর ফাইনালের এই নাটকীয় ও ঐতিহাসিক মঞ্চে এমন নায়কাসুলভ পারফরম্যান্সের সুবাদে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-র ম্যাচ সেরা বা 'ফিফা ম্যান অব দ্য ম্যাচ' পুরস্কার জিতে নেন ফেরান তোরেস। ক্যারিয়ারজুড়ে হাজারো সমালোচনা আর ট্রলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তোরেস প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চের আসল নায়ক তিনিই।