ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের রক্ষণভাগের নিখুঁত ও নিশ্ছিদ্র রণকৌশলের সামনে পুরোপুরি অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী আক্রমণভাগ। পুরো ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের গোলবার লক্ষ্য করে একটি অন-টার্গেট শটও নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। মাঠে লিওনেল মেসির মতো বিশ্বসেরা জাদুকর উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের গুটি কয়েক বিচ্ছিন্ন আক্রমণকে কোনো কার্যকর গোলের সুযোগে রূপান্তর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত ১টায় বিশ্বসেরা হওয়ার চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় দুই পরাশক্তি। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের আরও ৩০ মিনিট জুড়ে স্পেনের জমাট ডিফেন্স ভেঙে কোনো ফাঁকা জায়গা বের করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। স্প্যানিশ রক্ষণভাগের কড়া পাহারায় পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার মোট শটের সংখ্যা ছিল মাত্র ২টি, যার একটিও প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের ভেতরে ছিল না।
বিপরীত চিত্র ছিল স্পেনের শিবিরে। পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনাকে পুরোপুরি চেপে ধরে একের পর এক আক্রমণ সাজায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা মোট ২০টি শট নেন, যার মধ্যে ১২টি শটই ছিল সরাসরি আর্জেন্টিনার গোলপোস্ট লক্ষ্য করে। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের এমন চরম ব্যর্থতার দিনে গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একাই চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হয়নি মেসিবাহিনীর।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে এগিয়ে যায় স্পেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বলটা চমৎকার দক্ষতায় মাঠের ভেতরে সতীর্থের উদ্দেশ্যে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। সেই পাসটি অনেকটা ফাঁকা জায়গায় পেয়ে যান ফেররান তোরেস। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কালবিলম্ব না করে এক দর্শনীয় শটে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপান তিনি। ম্যাচের বাকি সময়ে গোল শোধের জন্য আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে চেষ্টা করলেও স্পেনের জমাট ডিফেন্সের সাথে পেরে ওঠেনি। ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠ ছাড়ে স্পেন।