ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মেলালেন না রোমেরো, কারণ কী?


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৩:৫৪ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শ্বাসরুদ্ধকর সমাপনী শেষে এখন ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আচরণের আলোচনা তুঙ্গে। ফাইনালের ট্রফি ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের ভরসা ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে ঘিরে নেটদুনিয়ায় বিশ্বজুড়ে তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পুরস্কার নেওয়ার সময় মঞ্চে উপস্থিত থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে একেবারেই তাকে পাশ কাটিয়ে হেঁটে চলে যান এই আর্জেন্টাইন তারকা। সেই ভিডিও ফুটেজ মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর ক্রীড়ামোদী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ।

নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ ট্রফিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় আলবিসেলেস্তাদের। খেলার সমাপ্তি শেষে রৌপ্যপদক গ্রহণের জন্য যখন আর্জেন্টিনার স্কোয়াডের সদস্যরা একে একে বিশ্বমঞ্চের বিশেষ পডিয়ামে উঠছিলেন, তখন সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দলগত প্রথা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতি অনুযায়ী আর্জেন্টিনার সিংহভাগ খেলোয়াড়ই আনুষ্ঠানিকতা বজায় রেখে বিশ্বনেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করে নিজেদের পদক গ্রহণ করেন। তবে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যায় ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর ক্ষেত্রে। তিনি সোজা ট্রাম্পকে পাশ কাটিয়ে পদক নিয়ে হেঁটে যান, যা সরাসরি নজর কাড়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারকারী চ্যানেলগুলোর স্পোর্টস ক্যামেরায়। ফুটেজটি দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মতামত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি পক্ষ তার এই স্পষ্ট অবস্থানকে তাদের নিজস্ব বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সমর্থন জানাচ্ছেন, আর অন্য অংশটি এটিকে বিশ্বমঞ্চের প্রোটোকল লঙ্ঘন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করছেন।

রোমেরো ঠিক কী কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়িয়ে দেওয়া হাত প্রত্যাখ্যান করলেন বা পাশ কাটিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি দেননি। যার ফলে তার এই চমকপ্রদ সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা অনুমান তৈরি হয়েছে। তবে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, রোমেরো করমর্দন এড়িয়ে গেলেও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বাগবিতণ্ডায় জড়াননি; অতি শান্ত ও গম্ভীর চেহারায় তিনি নিজের পথ ধরে পডিয়াম অতিক্রম করেন।

বৈশ্বিক বিভিন্ন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, মাঠের ভেতরে যেমন আপসহীন ও মেজাজি রোমেরোকে দেখা যায়, মাঠের বাইরের এই দৃশ্যটি যেন তারই এক অনন্য প্রতিফলন। জাতীয় দলের একাদশে জায়গা করে নেওয়ার আগে ইতালিয়ান লিগের দল আতালান্তায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন এই স্প্যানিশভাষী ফরোয়ার্ড-ডিফেন্ডার। সেখানে তার শারীরিক ফুটবল ও আগ্রাসী রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে বিশ্ব ফুটবলে নিজস্ব পরিচয়ের ভিত গড়ে তোলেন তিনি। পরবর্তীতে জাতীয় দলের প্রধান শিক্ষক লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনায় রক্ষণভাগের নির্ভরযোগ্য স্তম্ভে রূপান্তরিত হন রোমেরো।

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ আসরে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়ার পেছনে তার অনবদ্য শারীরিক উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। যদিও ফাইনাল লড়াইয়ে স্প্যানিশ আক্রমণভাগের চাপ সামলাতে গিয়ে অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় লিওনেল মেসিদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত পদক প্রদান পর্ব স্রেফ খেলোয়াড়দের দীর্ঘ এক মাসের পরিশ্রম ও অর্জন উদযাপনের মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সেখানে বিশ্বরাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ট্রাম্পের সরাসরি উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে কিছুটা হলেও মনস্তাত্ত্বিক রূপ দিয়েছিল। আর এমন প্রেক্ষাপটে রোমেরোর এই নিরবচ্ছিন্নভাবে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্তটি ওই বিকেলের সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কেউ হয়তো স্পোর্টসম্যানশিপের তোয়াক্কা না করার কারণে এটাকে অসৌজন্যমূলক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মতামত অনুযায়ী, আবেগ ও সম্মান কখনোই কোনো বাঁধাধরা নিয়মে জোরপূর্বক অর্জন করা যায় না। বৈশ্বিক শত কোটি দর্শকদের উপস্থিতিতে রোমেরো তার ব্যক্তিগত নৈতিকতা অনুযায়ী এক স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন এবং এর থেকে উদ্ভূত বিতর্ককেও বেশ সাহসিকতার সাথেই বরণ করে নিয়েছেন। ফাইনালের অনাকাঙ্ক্ষিত পরাজয়ের চরম হতাশাজনক পরিবেশেও রোমেরোর কোনো বাক্য ব্যয় না করে নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকার এমন ছবিই এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন আলোচিত অধ্যায়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর