ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আল-জারা হাসপাতালে অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল চিকিৎসার অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসান। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
ডা. আতিকুল আহসানের লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, রোগীকে প্রচলিত চিকিৎসা-নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি।
তিনি জানান, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বজনদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। বিষয়টি বুঝে রোগীর তিনজন স্বজন চিকিৎসার সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেন এবং সেই নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষে রোগীর জ্ঞান ফিরে এলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দেরি হওয়ায় উন্নত পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
ডা. আতিকুল আহসান বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তবে সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বিকেলে সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে আয়েশা তীব্র পেটব্যথা নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল-জারা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রোগীর পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার সাধারণত নিয়মিত এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে যেকোনো অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ, অ্যানেস্থেশিয়া-সংক্রান্ত জটিলতা বা অন্যান্য অপ্রত্যাশিত শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই কোনো মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র, আইসিইউ রিপোর্ট, অপারেশনের বিবরণ এবং প্রয়োজন হলে ময়নাতদন্তের ফলাফলসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
আকাশজমিন / আরআর