খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার দাকোপ উপজেলায় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে খালে দেওয়া তিনটি স্থায়ী চরপাটা বাঁধ ধ্বংস এবং ক্ষতিকর চার খণ্ড ‘ব্লু নেট’ জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার পানখালী হাটখোলা এলাকার ‘ওরা তোলার খালে’ উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এর আওতায় পরিচালিত অভিযানে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালটিতে অবৈধভাবে স্থাপন করা বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা তিনটি স্থায়ী চরপাটা ধ্বংস করা হয় এবং মাছের বংশবিস্তার ও জলজ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর চার খণ্ড ব্লু নেট জব্দ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ বোরহান উদ্দিন মিঠু এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাব্বির আহম্মেদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক), দাকোপ থানা পুলিশের এসআই ঝন্টু কুমার বাসকের নেতৃত্বে একটি পুলিশ টিম এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, অভিযানের মাধ্যমে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি অবৈধ বাঁধমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। জব্দ করা ব্লু নেট ও ধ্বংস করা চরপাটাগুলো স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে অপসারণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, খালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি করা হবে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে পুনরায় খালে অবৈধ বাঁধ বা ক্ষতিকর জাল স্থাপন করতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তদারকি অব্যাহত রাখা হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উন্মুক্ত জলাশয়ে অবৈধভাবে স্থায়ী পাটা বসানো এবং ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
প্রশাসন আরও জানিয়েছে, জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা, দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খাল উন্মুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।