ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

শহীদ দিবসের মঞ্চ ভাঙচুরের প্রতিবাদে গভীর রাতে রাস্তায় মমতা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৬:৫১ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২১ জুলাই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন দিন। শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তবে এবারের পরিস্থিতি যেন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তীব্র আন্দোলনে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম শিখরে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই নেত্রী আবারও সরাসরি রাজপথে নেমে এসে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় তুঙ্গে তুলে দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্বঘোষিত শহীদ দিবস পালনের কর্মসূচিকে ঘিরে এই রাজনৈতিক উত্তাপ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজ্যে।

অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতির এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতার মেয়ো রোডে শহীদ দিবসের পৃথক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ফলে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও রাজনৈতিক শক্তির মহড়াকে কেন্দ্র করে পুরো কলকাতা শহর জুড়ে এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে প্রধান দুই মেরুর এই অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এরই মধ্যে শহীদ দিবসের মূল সভামঞ্চে হামলা ও মারাত্মক ভাঙচুরের তীব্র অভিযোগ তুলেছেন মমতা ব্যানার্জী। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২০ জুলাই) গভীর রাতে কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে আয়োজিত সভা মঞ্চ পাহাড়ায় নিজেই উপস্থিত হন তিনি। অত রাতে তৃণমূল সুপ্রিমোর আকস্মিক উপস্থিতি রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি করে। ওই সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জী।

ঘটনার তীব্রতা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্পর্শকাতর ভিডিও পোস্ট করা হয়। কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে সরাসরি অভিযোগ করা হয় যে, রাতের অন্ধকারে একদল দুর্বৃত্ত ও বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপির কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে সভা মঞ্চে হামলা এবং ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দাবি করে যে, তাদের নির্মিত সভামঞ্চের বিদ্যুতের লাইন পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বড় ধরনের নাশকতা ঘটানো যায়। তৃণমূল নেতৃত্বের ভাষ্যমতে, এটি কেবল একটি সাধারণ সভা মঞ্চে ভাংচুর চালানোর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি এ দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার এবং লাখ লাখ কর্মী-সমর্থকদের আবেগ ও অনুভূতির ওপর এক পরিকল্পিত ও জঘন্য আক্রমণ।

ভাঙচুর হওয়া ঘটনাস্থলে সরেজমিনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে মমতা ব্যানার্জী বলেন, ‘আমরা সন্ধ্যায় এসে এখান থেকে পুরো এলাকা ঘুরে গেছি, তখন আমরা সবাই উপস্থিত ছিলাম। একে তো বর্ষার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, তার ওপর আমি বারবার বলছি—রাজ্যের চারিদিক থেকে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের শহীদ দিবসের সমাবেশে আসতে নানাভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কেবল তাই নয়, শহীদ পরিবারগুলোর বাড়িঘর পর্যন্ত পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে যাতে তারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারেন। কিন্তু আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা তো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাদের স্মরণ করবই। বন্দুক বা গায়ের জোরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে এভাবে আটকে রাখা যায় না। আকস্মিক হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা যে যে অবস্থায় ছিলাম, দ্রুত ছুটে এসেছি। এসে দেখি আমাদের কষ্টার্জিত মঞ্চ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুতের সংযোগ ও মাইকের তার কেটে দেওয়া হয়েছে এবং চারিদিকে টাঙানো পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।’

মমতা ব্যানার্জী তাঁর বক্তব্যে সরাসরি হামলার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করে আরও বলেন, বিজেপির আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ জনের একটি বাইক বাহিনী ও পেশাদার গুণ্ডা দল একজোট হয়ে এই তাণ্ডব ও হামলা চালিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই হামলায় যে নেতৃত্ব দিয়েছে, সে একজন কুখ্যাত অসামাজিক ব্যক্তি, যে বর্তমানে আদালতের বিশেষ নির্দেশে জামিনে বাইরে রয়েছে।

মমতা ব্যানার্জী ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছিলাম, কীভাবে আমাদের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান নষ্ট করা যায়। সে জন্য পুলিশ এবং বিজেপির কর্মীদের এক করে একটি বড় চক্রান্ত করা হচ্ছে। এমনকি আমাকেও বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছিল না, একপ্রকার নজরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমাদের নেতা অভিষেক বাইরে বের হয়েছিল, তাকে প্রকাশ্যে মারা হয়েছে। একইভাবে বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ ব্যানার্জীর ওপরও গতকাল নির্মম হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিদিন নিয়ম করে আমাদের ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত অত্যাচার ও হামলা চালানো হচ্ছে।’

সব মিলিয়ে ২১ জুলাই শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনীতি এখন ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো উত্তপ্ত, যেখানে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মুখোমুখি অবস্থান পুরো রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর