ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

দৌলতদিয়ায় মাছ বিক্রিতে ধলতার নামে জুলুমের শিকার পদ্মা নদীর জেলেরা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৩৬ পিএম

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধিঃ 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাছ বিক্রিতে পদ্মা নদীর সাধারণ জেলেরা ধলতার নামে জুলুমের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  জানা গেছে , দৌলতদিয়া পদ্মা নদীর জেলেরা দিন-রাত পরিশ্রম করে নদীতে জাল ফেলে মাছ শিকার করেন। বড় মাছ ধরার জেলেরা নিয়মিত মাছও পান না। যে কারণে ধারদেনা করে তাদের চলতে হয়। আবার ৫/৭ দিন পর এক/দুইটা বড় মাছ পেলে তা বিক্রি করে সেই দেনা পরিশোধ করেন। কিন্তু মাছ বিক্রি করতে গিয়ে আড়ৎদার ও বেপারিদের দ্বারা ধলতা ও কম দাম দেয়ার মতো বঞ্চনার শিকার হন। 

আলাপকালে কয়েকজন সাধারণ জেলে অভিযোগ করে বলেন, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা নদীর উত্তাল ঢেউ সহ নানা বৈরি পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করে মাছ শিকার করে থাকেন। সেই মাছ আড়তে বিক্রিতে দৌলতদিয়া ঘাটের আড়ৎদাররা প্রতি কেজি মাছে ১০০ গ্রাম করে ধলতা বা কম দেয়ার একটা অলিখিত নিয়ম করে নিয়েছেন। কেজি প্রতি ১০০ গ্রাম করে ধলতা বাদ দেয়ার পরও প্রতিটি মাছ হতে আরো অতিরিক্ত ১০০ গ্রাম বাদ দেয়া হয়।

বিষয়টি এক প্রকার বাধ্য হয়ে মেনেও নিয়েছেন এ অঞ্চলের জেলেরা।  কিন্তু কোন কোন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আড়ৎ হতে নিলামে মাছ কিনে আনার পর জেলেকে  টাকা দেয়ার সময় জোর করে কেজি প্রতি ২০০ গ্রাম করে বাদ দেন এবং নিলামে চূড়ান্ত হওয়া দামের থেকে কেজি প্রতি ১/২'শ টাকা করে কম দিয়ে থাকেন।  প্রতিবাদ করলে হুমকি ধামকি সহ বাজে আচরন করেন। 

অতিরিক্ত ধলতার এই রকম একটি বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার কয়েকজন বিক্ষুব্ধ জেলে চান্দু মোল্লা নামের একজন মাছ ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা ও ভাংচুর চালায়। কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে দোকানের দুই কর্মচারীকে। বিষয়টি নিয়ে জেলে রমজান শেখ, জয়নাল শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় একটা মামলা দায়ের করেন চান্দু মোল্লা। 

এ বিষয়ে জেলে রমজান শেখ, জয়নাল শেখ, আহম্মদ শেখ সহ কয়েকজন বলেন, তারা গত শুক্রবার নদী থেকে সারে ১১ কেজি ওজনের দুইটি পাঙ্গাস মাছ ধরেন। মাছ দুটি বিক্রি করার জন্য ফেরি ঘাটে নিয়ে আসলে চান্দু মোল্লার আড়তের কর্মচারী মমিন ও শাহাদাৎ মাছ দুটির দরদাম করে কিনে নেন। কিন্তু তারা ধলতা হিসেবে প্রতি কেজি মাছে জোর করে ২০০ গ্রাম করে কম দিতে চাইলে আমরা দিতে অস্বীকার করি। এ সময় শাহাদাৎ আমার ভাইকে কলার ধরে মাছ দিবি না কেনো বলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে আমরাও তাদের উপর চড়াও হই। ধলতার নামে চান্দু মোল্লার দোকানে এই রকম জুলুম চালানো হচ্ছে অনেকদিন ধরেই। অন্য ব্যবসায়ীরাও কমবেশি এই ধরনের জুলুম চালায়। আমরা এর প্রতিকার চাই। 

অভিযোগের বিষয়ে মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, আমি বা আমার দোকানের কারো সাথে কখনো কোনদিন কোনো জেলের ঝগড়া বা কথা কাটাকাটি হয়নি। সেদিন ওরা দুইটা মাছ বিক্রি করতে আসলে দামদর করার পরে ১০০ গ্রাম মাছের ধলতা নিয়ে আমার ভাই ও ভাগিনার সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয়ে তর্ক- বিতর্ক হয়। আড়তদার নিজ উপস্থিত থেকে ঝামেলা মিটিয়েও দেন। তার পরেও জেলেরা দেশি অস্ত্রশ্বস্ত্র নিয়ে আমার দোকান ভাঙচুর করে ও আমার ভাই ও ভাগিনাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। দোকান থেকে লুটপাট করে নিয়ে যায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। এখন তাদের এই অপরাধ আড়াল করতে এবং আমার ব্যবসায়ী সুনাম নষ্ট করতে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করছে। 

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ফেরিঘাটে মাছের দোকানে হামলা, দুইজনকে পিছিয়ে আহত করা ও অর্থ লুটের অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার পিছনে জেলেদের বঞ্চনার বিষয়টিও খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 



এ সম্পর্কিত আরো খবর