চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদের দিকে এগোতে থাকা হাজার হাজার তরুণের ওপর রাষ্ট্রশক্তির কঠোর প্রয়োগ এবং অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তরের ঘটনায় মোদি সরকারের অবস্থান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদ অধিবেশন শুরুর ভাষণে আন্দোলনকারী তরুণদের ক্ষোভের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বিরোধী নেতাদের কটাক্ষ করেন। সরকারের এই উদাসীনতাকে ক্ষমতাসীনদের দম্ভ ও অহমিকা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। এর আগে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার গণদাবি ও কেলেঙ্কারির মুখে একাধিক মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল, যা তাদের রাজনীতিতে দুর্বল করে দিয়েছিল বলে বিজেপি মনে করে। ফলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ মানেই নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার—এই যুক্তিতে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও পরিবারের ক্ষোভের মুখেও কোনো নতি স্বীকার করছে না বর্তমান কেন্দ্রীয় প্রশাসন।
তবে শিক্ষার্থী ও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) এই হঠাৎ গণজমায়েত দিল্লিকে কিছুটা হলেও বিচলিত করেছে। বিষয়টি এখন কেবল প্রশ্নফাঁস বা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে তরুণদের একটি নৈতিক প্রতিরোধে রূপ নিয়েছে। বিতর্কিত শিক্ষানীতি, বাধ্যতামূলক সংস্কৃতের প্রভাব বৃদ্ধি, খানাপিনায় বিধিনিষেধ এবং একের পর এক ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ফলে সৃষ্ট অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে রাস্তায়। তরুণ প্রজন্মের অভিযোগ—সরকার সব বিষয়ে আলোচনা এড়িয়ে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল চেতনার পরিপন্থী।