ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সেই বিখ্যাত দর্শন—‘আক্রমণভাগ আপনাকে ম্যাচ জেতাবে, কিন্তু শক্ত রক্ষণভাগ এনে দেবে ট্রফি’—আরেকবার বাস্তবে রূপ নিল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে। দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্প্যানিশদের বিশ্বজয়ের অন্যতম বড় ভিত্তি ছিল তাঁদের জমাট ডিফেন্স। পুরো টুর্নামেন্টের ৮ ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে চ্যাম্পিয়নরা। স্পেনের এই অভেদ্য রক্ষণভাগে অসামান্য অবদান রেখে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ১৮ বছর বয়সী তরুণ বার্সেলোনা ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি। পুরো আসরে প্রতিপক্ষের ৩৩টি বিপজ্জনক আক্রমণ নসাৎ ও ক্লিয়ার করে তিনি যেমন আলো ছড়িয়েছেন, তেমনি সবাইকে অবাক করে বিশ্বকাপের সেরা একাদশের ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।
তবে তরুণ এই সেন্টার ব্যাক সুযোগ না পেলেও বিশ্বকাপের প্রাথমিক সংক্ষিপ্ত তালিকায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের আধিপত্য স্পষ্ট। ঘোষিত এই তালিকায় সর্বোচ্চ ৬ জন স্প্যানিশ ফুটবলার মনোনীত হয়েছেন। অন্যদিকে রানার্সআপ দল আর্জেন্টিনা থেকে জায়গা পেয়েছেন ৫ জন তারকা। গোলরক্ষক বিভাগে ট্রফির লড়াইয়ে মনোনীত পাঁচজন হলেন—এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ভোজিনহা, উনাই সিমন, জর্ডান পিকফোর্ড ও এলয় রুম।
রক্ষণভাগের তালিকায় স্থান পেয়েছেন স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর কারিগর মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরো। তাঁদের সঙ্গী হিসেবে আরও আছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নুনো মেন্দেস, ভার্জিল ফন ডাইক, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং দায়োত উপামেকানো। মিডফিল্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান সেরা নামগুলো, যাদের মধ্যে রয়েছেন—জুড বেলিংহ্যাম, উসমান দেম্বেলে, লুকা মদরিচ, মাইকেল ওলিসে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এনজো ফার্নান্দেজ, ইসমাইল সাইবারি, রদ্রি এবং লামিনে ইয়ামাল।
আক্রমণভাগের মনোনীত ফরোয়ার্ডদের তালিকায় অবধারিতভাবেই স্থান পেয়েছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁদের পাশাপাশি বর্ষীয়ান ও তরুণদের দুর্দান্ত কম্বিনেশনে জায়গা করে নিয়েছেন আর্লিং হলান্ড, হ্যারি কেইন, হুলিয়ান কিনিওনেস এবং ফাইনালের গোলদাতা মিকেল ওইয়ারজাবাল। এখন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে, যেখানে নির্বাচিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের সেরা একাদশ।