সফরে বাংলাদেশ একমাত্র টেস্টে পরাজয়ের পাশাপাশি ওয়ানডে সিরিজেও ব্যর্থ হয়। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও হারতে হয়। তবে শেষ দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে সফর শেষ করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। তিনি বলেন, জিম্বাবুয়ের ভিন্ন কন্ডিশন এবং প্রস্তুতির ঘাটতি দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।
আশরাফুল জানান, সফরের আগে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ না থাকায় স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের উইকেটের অতিরিক্ত বাউন্স ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ব্যাটিং কোচ বলেন, জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে কাজে লাগতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে হলে প্রস্তুতি ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি।
এদিকে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। সেখানে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। এই সিরিজটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ-এর অংশ হওয়ায় এর গুরুত্বও অনেক বেশি।
আশরাফুল জানান, অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বাংলাদেশ দল প্রায় ১০ দিন আগে সেখানে পৌঁছাবে। এছাড়া তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে দল। তার বিশ্বাস, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পেলে ক্রিকেটাররা নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে পারবেন।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আগেভাগে যাওয়া এবং প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা দলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়েই সফরে যাবে বাংলাদেশ।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এটি হবে প্রথম টেস্ট সিরিজ, যা দেশের ক্রিকেটের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
জিম্বাবুয়ে সফরে প্রত্যাশিত সাফল্য না এলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি শুরু করছে টাইগাররা। ক্রিকেটপ্রেমীদেরও আশা, উন্নত প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতার আলোকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স উপহার দেবে বাংলাদেশ।