২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ডেটা-ভিত্তিক ‘ফিফা পাওয়ার র্যাঙ্কিং’-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। টুর্নামেন্ট শেষে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা প্রকাশিত এই তালিকায় দেখা গেছে, মাঠের পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্সের প্রভাব অনুযায়ী আক্রমণভাগে সেরার মুকুট জিতেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, সৃজনশীলতায় শীর্ষে আছেন তাঁরই সতীর্থ মাইকেল অলিসে এবং রক্ষণে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি।
ফিফার তৈরি এই নতুন পাওয়ার র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা মূলত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশদ ম্যাচ ডেটার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। এতে আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন করা হয়—আক্রমণ, সৃজনশীলতা এবং রক্ষণ। আর গোলরক্ষকদের বিচার করা হয় দুটি ভিন্ন বিভাগে—গোল রক্ষা এবং বল দখলে অবদান। নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো ম্যাচে অন্তত ২০ মিনিট খেলার সুযোগ পেলেই একজন ফুটবলার এই রেটিং ব্যবস্থার আওতায় আসেন। প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে স্কোর প্রকাশিত হয় এবং প্রতিটি রাউন্ড শেষে পুরো টুর্নামেন্টের সেরা ১০০ ফুটবলারের প্রযুক্তি নির্ভর তালিকা প্রকাশ করা হয়। ফিফার 'ফুটবল পারফরম্যান্স ইনসাইটস' টিমের তৈরি এই বিশেষ অ্যালগরিদম প্রকল্পটি তত্ত্বাবধান করেছেন আর্সেনালের সাবেক কোচ আর্সেন ভেঙ্গার এবং ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ।
আক্রমণ বিভাগে সেরা পারফর্ম করে সবার ওপরের স্থানটি নিশ্চিত করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাবও নিজের দখলে নেন এই ফরাসি তারকা। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি আক্রমণ বিভাগে সর্বোচ্চ ৯.১২ রেটিং অর্জন করেন। এই ক্যাটাগরিতে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম (৮.২৯ রেটিং), আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (৮.০৬ রেটিং) এবং নরওয়ের আর্লিং হল্যান্ড (৭.৫৪ রেটিং)। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করে এমবাপ্পে নিজের শীর্ষস্থান সুসংহত করেন।
অন্যদিকে, ফরাসি আক্রমণভাগের আরেক তারকা মাইকেল অলিসে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ সাতটি গোল অ্যাসিস্ট করে সৃজনশীলতা ক্যাটাগরিতে ৮.২৯ রেটিং পেয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন। এই বিভাগে লিওনেল মেসি ৮.২৬ রেটিং নিয়ে দ্বিতীয় এবং এমবাপ্পে ৭.৮৪ রেটিং নিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেন। এছাড়া সৃজনশীলতার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন স্পেনের লামিন ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা ও দানি ওলমো এবং ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডন ও মার্কাস রাশফোর্ড।
রক্ষণে স্পেনের ডিফেন্ডাররা টুর্নামেন্টজুড়ে রাজত্ব কায়েম করেছেন। আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করে বিশ্বকাপ জেতা স্পেনের গোল্ডেন বলজয়ী অধিনায়ক রদ্রি ৮.২৩ রেটিং নিয়ে রক্ষণ বিভাগের শীর্ষে রয়েছেন। রদ্রির পর তালিকার পরবর্তী তিনটি স্থানও স্পেনের খেলোয়াড়দের দখলে—পাও কুবারসি (৭.৬০), পেদ্রো পোরো (৭.৫৯) এবং আইমেরিক লাপোর্তে (৭.১৪)। টুর্নামেন্টের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে ফেরান তোরেস ৯৪ ধাপ এগিয়ে আক্রমণ তালিকার শীর্ষ ৩০-এ প্রবেশ করেন। আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা ২৭ ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে উঠে আসেন।
ফিফার মতে, এই পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ের মূল লক্ষ্য শুধু গোল কিংবা ট্যাকলের সংখ্যা হিসাব করা নয়; বরং মাঠে খেলোয়াড়ের সার্বিক প্রভাব এবং দলের জয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ অবদান নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা।