ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

টাইপিংয়ের সামান্য ভুলেই পেন্টাগনের বাজেটে কোটি কোটি ডলারের গরমিল


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:১৩ পিএম

সামান্য টাইপিংয়ের ভুল কিংবা হিসাবের নথিতে দু-একটি অতিরিক্ত শূন্য বসে যাওয়া যে কত বড় অর্থনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, তার এক নজিরবিহীন উদাহরণ ফুটে উঠেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে। কিবোর্ডে সংখ্যার ০ (শূন্য)-এর বদলে ভুলবশত ইংরেজি বর্ণ 'O' চাপার মতো একটি অতি সাধারণ ভুলের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর খাতায় হুট করেই বেড়ে গিয়েছিল নথিবদ্ধ যানবাহনের সংখ্যা। ২০২৮ সালের মধ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরীক্ষা বা অডিট সম্পন্ন করার লক্ষ্য হাতে নিয়েছে পেন্টাগন। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করতে গিয়েই মার্কিন সামরিক বাহিনীর একের পর এক গোলমেলে ও অদ্ভুত তথ্যত্রুটি প্রকাশ্যে আসছে।

প্রতি বছর প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিপুল পরিমাণ বাজেট পরিচালনা করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। অথচ ১৯৯০ সালে অডিট আইন পাস হওয়া সত্ত্বেও ২০১৮ সাল থেকে টানা আটবার হিসাব নিরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে প্রভাবশালী এই সংস্থাটি। গত বছরের ডিসেম্বরে অষ্টম অডিটে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর পেন্টাগন কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয় যে, আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে তারা একটি শতভাগ নিখুঁত ও স্বচ্ছ অডিট রিপোর্ট নিশ্চিত করবে। দীর্ঘদিনের এই জটিল সংকট কাটাতে বর্তমানে ব্যাপক প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৯ সাল থেকে সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত ১,৩০০টিরও বেশি আলাদা অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সিস্টেম হ্রাস করে বর্তমানে প্রায় ২০০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর সার্বিক অর্থনৈতিক লেনদেন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম একক জায়গায় নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চালু করা হয় 'আর্মি ফিসক্যাল ফ্রন্টলাইন' নামক একটি সর্বাধুনিক ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড। এই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে তথ্য মেলাতে গিয়েই বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা নানান অসংগতি ধরা পড়তে শুরু করে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর আর্থিক পরিচালনা ও হিসাব বিভাগের পরিচালক নাতাশা অ্যান্ডারসন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সামরিক বাহিনীর যানবাহন মেরামতের তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় কর্মীরা সংখ্যার ০ (শূন্য)-এর জায়গায় ইংরেজি বর্ণ 'O' টাইপ করেছিলেন। আর এতেই তৈরি হয় বড় গোলমাল; মূল ডিজিটাল সিস্টেম সেই এন্ট্রিকে পুরোনো গাড়ির মেরামতের বদলে একদম নতুন একটি গাড়ি হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত করে নেয়। ফলে নথিপত্রে বাস্তবে থাকা বহরের চেয়ে বহু গুণ বেশি ট্রাক ও সামরিক গাড়ি কাগজপত্রে দৃশ্যমান হতে থাকে।

শুধু যানবাহনেই নয়, একই ধরনের ভুল দেখা গেছে অবকাঠামোগত নথিতেও। বিভিন্ন সেনা ব্যারাক, হাসপাতাল ও সামরিক ঘাঁটির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথিতে ভূমির আয়তন বা বাজেটের খরচের জায়গায় ভুলবশত অতিরিক্ত শূন্য যুক্ত হওয়া কিংবা মূল শূন্য বাদ পড়ার কারণে বরাদ্দের হিসেবে বড় ধরনের গরমিল দেখা দেয়। এর ফলে যে এলাকা বা ঘাঁটিতে সংস্কার কাজের জন্য যত অর্থ পাওয়ার কথা ছিল, কণিক তথ্যের ভুলের কারণে প্রকৃতপক্ষে সেখানে বরাদ্দ পৌঁছাচ্ছিল একেবারেই অন্য অঙ্কের।

মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মার্ক অ্যান্ডারসন জানান, নতুন চালু হওয়া ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবাদে এখন মাঠপর্যায়ের সেনা ইউনিট থেকে শুরু করে পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা একই সময়ে রিয়েল-টাইমে সামরিক বাহিনীর পুরো আর্থিক চিত্র স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন। তবে কেবল ভুল চিহ্নিত করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না মার্কিন প্রশাসন। ভবিষ্যতে এই ধরনের টাইপিং বা মানবিক ভুলগুলো যাতে মূল সিস্টেমে ডেটা প্রবেশের আগেই আটকে দেওয়া যায়, সে জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের কঠিন অডিট চ্যালেঞ্জ উৎরাতে এখন নিজেদের পুরো প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিরক্ষা বিভাগ।



এ সম্পর্কিত আরো খবর