ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই পদত্যাগের কথা জানান।
এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে সিজেপি জানিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আর কোনো আলোচনায় বসবে না তারা।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সরকার যদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে, তাহলে আলোচনার কোনো অর্থ হয় না। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস চলবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নেতিবাচক জবাব এলে আলোচনার সুযোগ আর থাকে না।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। শনিবার বিকেলে তাদের সঙ্গে তৃতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা এখনও তাদের দাবিতে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে।
আন্দোলনকারী প্ল্যাটফর্মটি মূল তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো— প্রথমত, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ; দ্বিতীয়ত, আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান; এবং তৃতীয়ত, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় কেন্দ্র আন্দোলনকারীদের দুটি প্রধান দাবিতে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছিল। দাবি দুটি ছিল— আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তবে ওই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। অবশেষে সিজেপির কঠোর অবস্থানের মুখে শনিবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।