তীব্র গণআন্দোলনের মুখে মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দেশটির রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে চলা আন্দোলনকারীদের মূল দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ককরোচ জনতা পার্টি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তাঁদের এই আন্দোলন এখনই শেষ হচ্ছে না। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁদের উত্থাপিত তিনটি প্রধান দাবির মাত্র একটি পূরণ হয়েছে। বাকি দুটি দাবিও সরকারকে অবিলম্বে মেনে নিতে হবে, অন্যথায় আন্দোলন আগের মতোই রাজপথে বজায় থাকবে।
তাঁদের অপর দুটি দাবি হলো— প্রশ্নফাঁসের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মেডিকেল ভর্তির যেসব পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এক কোটি রুপি করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এবং আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে যেসকল পুলিশ সদস্য হামলা চালিয়েছেন, তদন্তপূর্বক তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দলটির প্রধান অভিজিৎ দীপকে এ বিষয়ে লিখেছেন, “ভয় পাওয়ার কিছুই নেই, কারণ এটিই হলো প্রকৃত গণতন্ত্র। আমাদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন ঠিকই, কিন্তু আমাদের বাকি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়ে গেছে। আমরা দাবি না মেনে এভাবে মাঠ ছেড়ে যাব না। ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ করলেও যেসব শিক্ষার্থী অকালে আত্মহত্যা করেছে, তাঁদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে। সরকারকে তা দিতে আমরা বাধ্য করব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দ্বিতীয় দাবি হলো— গত ২০ জুলাই পুলিশের যেসব সদস্য গুণ্ডার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরপরাধ বিক্ষোভকারীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখবেন— ককরোচদের সাথে লাগতে যাবেন না।”