আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি আরবের দাবি, গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। মূলত হোদাইদাহ বন্দরনগরীতে সাম্প্রতিক হামলার জবাবেই হুথিরা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে দেশটির শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটিকে আকাশে থাকা অবস্থায়ই প্রতিহত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি গ্রিক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবে মোতায়েনকৃত উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র দুটিকে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়। আক্রান্ত এলাকার নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করে তারা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি মূলত সৌদির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইয়ানবুর কৌশলগত তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সৌদি আরবের চালানো বিমান হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার স্পষ্ট অঙ্গীকার প্রকাশ করেছিল হুথি বিদ্রোহীরা। ওই হুমকির পরপরই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সৌদির জিজান ও ইয়ানবু শহরে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।
শনিবার সকালে হুথি-সমর্থিত আল মাসিরাহ টিভি জানায়, শুক্রবার রাতে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের নানা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সৌদি জোট হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া সংবাদমাধ্যমটি কামারান দ্বীপেও নতুন করে হামলার খবর দিয়েছে। কামারান দ্বীপে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অত্যন্ত সংবেদনশীল হোদাইদাহ বন্দরেও বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালানো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হোদাইদাহ বন্দরটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
কৌশলগত দিক থেকে হোদাইদাহ বন্দর শহরটি হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত। মূলত এই প্রধান সমুদ্রবন্দর দিয়েই হুথি-নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়েমেনে অধিকাংশ বাণিজ্যিক পণ্য ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা পৌঁছে থাকে।
ইয়েমেনে যৌথ অভিযান চালানো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য সরাসরি হুথিদের কঠোর ভাষায় দায়ী করেছেন। তিনি লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর গোষ্ঠীটির ধারাবাহিক হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত ও বেপরোয়া’ বলে আখ্যায়িত করেন।
এক বিশেষ বিবৃতিতে আল-মালিকি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ‘সমস্ত প্রয়োজনীয় অভিযানিক পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণ’ অব্যাহত রাখবে। সেই সঙ্গে হুথিরা যদি তাদের এমন ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।