আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতীয় স্তরের ভর্তি পরীক্ষা 'নিট'-এর প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে এই সিনিয়র নেতার নাম ঘোষণা করা হয়।
বর্তমানে প্রহ্লাদ ভেঙ্কটেশ জোশী ভারতের কেন্দ্রীয় ভোক্তা অধিকার, খাদ্য ও গণবণ্টন এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে পালন করছেন। নিজের বর্তমান দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি এখন থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কাজকর্মও তদারকি করবেন। ২০২৪ সালে গঠিত নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মন্ত্রিসভায় সফলভাবে ফিরে আসা পাঁচবারের এই সিনিয়র সংসদ সদস্যকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান আস্থাভাজন ও দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
১৯৬২ সালের নভেম্বর মাসে উত্তর কর্ণাটকের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রহ্লাদ জোশী। খুব অল্প বয়সেই ডানপন্থী সামাজিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি মূলধারার সংসদীয় রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেন।
এরপর ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কর্ণাটকের হাইপ্রোফাইল ধারওয়াদ-হুব্বালী আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেন। ২০০৪ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে টানা জয়লাভ করে সংসদীয় রাজনীতিতে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য ও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এই বিজেপি নেতা। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদে গঠিত মন্ত্রিসভায় তিনি প্রথমবারের মতো ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন এবং সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী ও কয়লা ও খনি মন্ত্রীর মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।
তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কর্ণাটকের স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবশালী লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের একটি শক্তিশালী অংশের সরাসরি বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল এই জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। সেই সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় অসন্তোষ ও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বিজেপির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পাসহ দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের সময়োচিত হস্তক্ষেপে দ্রুত সেই রাজনৈতিক সংকট কেটে যায়।
সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে প্রহ্লাদ জোশী কর্ণাটক রাজ্য শাখা এবং জাতীয় পর্যায়ে বিজেপির অন্যতম সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক ও প্রভাবশালী মুখ হিসেবে নিজের অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে অটুট রেখেছেন। এবার সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষাঙ্গনের অচলাবস্থা কাটাতে তাঁর ওপরই পুনরায় আস্থা রাখল মোদি সরকার।