জনপ্রিয় ব্যান্ড ডিফারেন্ট টাচ-এর প্রধান ভোকাল মেজবাহ রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এই গানটা আমরা সব সময়ই গাই। এটা চিরন্তন বৃষ্টির গান, বর্ষার গান, প্রকৃতির গান। ১৯৮৯ সালে আমরা গানটি তৈরি করি এবং ১৯৯০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করি। দীর্ঘ ৩৬ বছর পরও গানটির আবেদন একটুও কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে এটি প্রতিবাদের একটি ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা শিল্পী হিসেবে আমার জন্য এক ধরনের ভিন্ন অনুভূতি।’
সম্প্রতি এই চিরসবুজ গানটি আবহ হিসেবে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জের স্কুলশিক্ষিকা বিউটি পাল। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিকমাধ্যমে এক শ্রেণির মানুষের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এমনকি স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়। তবে ঘটনার পর তার সহকর্মী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকরা একই গান ব্যবহার করে রিল তৈরি করে বিউটি পালের প্রতি সরাসরি সংহতি প্রকাশ করছেন।
শিক্ষিকা বিউটি পালের এই ভাইরাল রিল প্রসঙ্গে শিল্পী মেজবাহ রহমান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা সব সময়ই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পর শিক্ষকদের স্থান দিই। শিক্ষকদের অবশ্যই কিছু পেশাগত বিষয় শিক্ষার্থীদের জন্য মেনে চলতে হয়। তবে এই সাধারণ রিল ভিডিওটি নিয়ে যেভাবে সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় তোলা হচ্ছে, সেটা মোটেও কাম্য নয়। আমার কাছে এই ভিডিওটিতে নেতিবাচক কিছু মনে হয়নি। এখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত শ্রেণি ঠিক কী অনৈতিক বিষয় খুঁজে পেল, তা আমি কোনোভাবেই বুঝতে পারছি না।’
ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের এই তারকা শিল্পী আরও যুক্ত করে বলেন, ‘বর্তমান যুগে সামাজিকমাধ্যমকে আমরা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না। প্রয়োজনেই সমাজের সব স্তরের মানুষ এর দ্বারস্থ হয়। তাই কেবল একটি একক দিক দেখে কাউকে দোষারোপ করা বা কাঠগড়ায় তোলা মোটেও ঠিক নয়।’
অন্যদিকে ঘটনাটির তীব্রতা সম্পর্কে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে সাধারণ এই ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান। তার ভাষায়, ‘এটুকু বিষয় নিয়ে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটি একদমই ঠিক হবে না। আমার মনে হয়, পুরো বিষয়টি কর্তৃপক্ষের খুব নমনীয়ভাবে দেখা উচিত। কারণ এটি কোনো অনৈতিক বা নেতিবাচক ভিডিও ছিল না।’