ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

‘মব সন্ত্রাসের’ বিচার দাবি ছাত্রসংগঠনগুলোর

রাবিতে জিএস আম্মারসহ ছাত্রশিবিরের মারধরের শিকার দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৩:৪০ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারসহ ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের হাতে দফায় দফায় নির্মম মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনকে পুলিশি হেফাজতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’–সংক্রান্ত একটি পূর্বে দায়ের করা মামলায় তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয় এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পবিত্র পাঠকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রকাশ্যে অমানবিক মারধরের ঘটনাকে ‘মব সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে এর কঠোর বিচার দাবি করেছে ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি সক্রিয় ছাত্রসংগঠন।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস ও মাহমুদুল হাসান। গত সোমবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করে মতিহার থানা পুলিশ।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে পূর্বে দায়ের করা একটি পুরোনো মামলায় ওই দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে বিশদভাবে জানা গেছে, সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত রোববার রাতে প্রক্টর কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন একই বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিন আলম। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে চরম ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ার হুমকি দেন মহসিন। ওই বিশেষ বৈঠকে অভিযুক্ত মহসিনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল হাসান। আলোচনার একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে প্রক্টরের বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়।

পরদিন সোমবার দুপুরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রক্টর দপ্তরে আবার বৈঠক বসে। সেখানে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করেন। এ সময় আনাসের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলে প্রক্টর দপ্তর থেকে সবাই বের হয়ে যান।

তবে অভিযোগ উঠেছে, এর কিছুক্ষণ পর রাকসু ভবনে গিয়ে সালাউদ্দিন আম্মার এবং রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিবের ওপর পাল্টা হামলা চালান আনাস, হাসিব ও মাহমুদুলসহ কয়েকজন। এতে নাজমুস সাকিব শারীরিকভাবে আহত হন।

পরবর্তীতে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নিলে সেখানে তাঁদের সঙ্গে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের চরম বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। একপর্যায়ে আক্রান্ত তিন শিক্ষার্থী জীবন বাঁচাতে গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা সরাসরি পাঠকক্ষে ঢুকে তাঁদের রড ও বেলচা দিয়ে মারধর করেন। হামলা ঠেকাতে গিয়ে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীও গুরুতর আহত হন। এমন অরাজক পরিস্থিতিতে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাঁদের ওপর নতুন করে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক, পুলিশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার পর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচারের দাবি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ছাত্রলীগের কর্মীদের গ্রেপ্তার ও পুরো মারধরের ঘটনা তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।


এদিকে গত রাতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রক্টরের কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মারধরের ঘটনাকে ‘মব সন্ত্রাস’ উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করে। একই সঙ্গে রাকসু ভবনে হামলার ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত চায় তারা। ছাত্র মঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকারের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় না এনে গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকে প্রকাশ্যে মারধর কোনো গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই নয়। এ ঘটনায় রাকসু ভবনে হামলা ও ‘মব সন্ত্রাস’—দুই ঘটনারই তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দুই দফা দাবি জানানো হয়। অন্যদিকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ বলেন, প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে শিক্ষার্থীদের মারধর করে ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রত্যেকের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর