ভারতের নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পুলিশের এক সিনিয়র কর্মকর্তার নির্দেশে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) প্রাণঘাতী নয়—এমন বিভিন্ন ধরনের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে। পুলিশের একটি সরকারি নথিতে দুই রাউন্ড প্লাস্টিক পেলেট নিক্ষেপের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) এ সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই দুপুর ১টা ২৪ মিনিটে আরএএফের এক ডেপুটি কমান্ড্যান্টের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এন্ট্রিটি করা হয়।
থানার নথি অনুযায়ী, যন্তর-মন্তর এলাকার জোন-১-এ দায়িত্ব পালনরত নীল পোশাকধারী আরএএফ সদস্যরা দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার (ডিসিপি) পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে আরএএফ ৫৫টি নন-ইলেকট্রিক্যাল শেল, ১৫টি ইলেকট্রিক্যাল শেল, পাঁচটি টিয়ার স্মোক গ্রেনেড, অ্যান্টি-রায়ট গান থেকে দুই রাউন্ড এবং প্লাস্টিক পেলেটের দুই রাউন্ড নিক্ষেপ করে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নন-লেথাল বা প্রাণঘাতী নয় এমন প্লাস্টিক পেলেটের প্রতিটি রাউন্ডে চারটি করে পেলেট থাকে। এগুলো ধাতব পেলেটের মতো শরীর ভেদ করার জন্য তৈরি নয় এবং তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয়।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া দুই থেকে তিনজন বিক্ষোভকারী পেলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে সিজেপি তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশ, আরএএফ ও সিআরপিএফের একাধিক সদস্যও আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে দিল্লি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’। অন্যদিকে সিআরপিএফ ও আরএএফ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
তবে সিআরপিএফের মহাপরিচালক জি পি সিং বলেছেন, আন্দোলন শেষ হওয়ার পর ঘটনাটি পেশাদারভাবে মূল্যায়ন করা হবে। পর্যালোচনা শেষে সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।