সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 68
নিহত তানিয়া খাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী শাহপরান তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ঘরজামাতা হিসেবে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন শাহপরান।
নিহত তানিয়ার বাবা সোরহাব আলী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তার মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর আগেও শাহপরান তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। সোমবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জের ধরেই শাহপরান তার মেয়েকে মারধর করে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার ভোরে শয়নকক্ষে তানিয়ার মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
তিনি বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহপরান পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, তানিয়া খাতুনের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।