আন্তর্জাতিক নৌপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুট লোহিত সাগর ও কৌশলগত বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজগুলো থেকে নিয়মিত ফি বা কর আদায়ের এক নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-রিয়ানি আজ বুধবার এক বার্তায় এই উদ্বেগজনক দাবি ও তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, মিত্র দেশ ইরানের সরাসরি পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ীই হুতিরা এই সুদূরপ্রসারী আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-রিয়ানির মতে, হুতিদের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য চরম বিপজ্জনক একটি উসকানি হতে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিকল্পনা যদি কোনোভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কৌশলগত সামুদ্রিক জলপথটি আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর স্থায়ী তহবিলের বড় উৎসে পরিণত হবে। তবে তথ্যমন্ত্রীর এই গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর দাবির বিপরীতে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, হুতিদের পেছনে প্রধান সমর্থক হিসেবে থাকা ইরানও সংঘাত বা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর অনুরূপ ফি আরোপের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আর এই অর্থনৈতিক ও সামরিক বিরোধের জের ধরে অঞ্চলটিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনকি একপর্যায়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানির প্রধান কার্যক্রম লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী ইয়ানবু বন্দরে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। এর পরপরই হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নৌ-অবরোধের পাল্টা ঘোষণা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। যদিও রিয়াদ তাৎক্ষণিকভাবে সেই হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে বুধবার ইরাকে অবস্থানরত ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে স্মরণকালের অন্যতম বড় হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
অভিযান শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও রিয়াদ যৌথভাবে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনী এবং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে ক্রমাগত সামরিক হামলার কঠোর জবাব দিতেই এই যৌথ বিমান অভিযান পরিচালিত হয়েছে।