ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ দফায় ইরান-সংশ্লিষ্ট আটটি জ্বালানি পরিবাহী ট্যাংকার এবং ১০টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) মার্কিন অর্থ বিভাগের প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট আটটি শক্তিশালী ট্যাংকার ও ১০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওপর লক্ষ্য নির্ধারণ করে ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্য এবং তাদের ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন নৌবহরের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ধারাবাহিকভাবে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ নীতির আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মার্কিন অর্থ বিভাগ তেহরানের সামরিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নে ব্যবহৃত বিপুল অর্থের জোগান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার কারণে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই হামলার জবাবে তেহরানকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন।
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক একচেটিয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত সৃষ্টির জন্য তেহরানকে এর চরম মূল্য দিতে হবে। জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ভয়াবহভাবে আঘাত করব। আমরা তাদের ওপর প্রচণ্ড ও স্মরণকালের সবচেয়ে বড় হামলা চালাব। তারা এর কঠিন ও তিতা মূল্য দেবে।’
জর্ডানে ইরানের ছোড়া ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই মাঝআকাশে সফলতা ও দক্ষতার সঙ্গে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন বাহিনীর এই দাবির পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরণের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কড়া সতর্কবার্তা জারি করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের এই সাম্প্রতিক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ‘আকস্মিক হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে পৌঁছানোর আগে পরিস্থিতি অনুধাবন ও উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য সেখানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের হাতে ছিল মাত্র কয়েক মিনিট সময়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।