ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

সাতক্ষীরায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন

বিচারক ১০ গুণ বাড়ালেও প্রচলিত ধারায় জট কমানো অসম্ভব


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৪৬ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান বিচারকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সময়ে এই বিপুল পরিমাণ মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

বুধবার জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, আদালতের দীর্ঘসূত্রী মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আপসযোগ্য মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আপসযোগ্য মামলাগুলো উভয় পক্ষের সম্মতিতে নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হলে শুধু আইনি বিরোধের অবসান ঘটে না, বরং দুটি পরিবারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও সামাজিক তিক্ততা দূর হয়ে সম্প্রীতি বজায় থাকে। এতে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ যেমন বাঁচে, তেমনই আদালতের ওপর মামলার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে আধুনিক ও শক্তিশালী করেছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে বেশ কিছু মামলার ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আপসের উদ্যোগ গ্রহণের বিধান করা হয়েছে। এই কার্যক্রম সফল করতে বিচারক, আইনজীবী, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে লিগ্যাল এইড আইন সংশোধন-সংক্রান্ত নানা দিক তুলে ধরেন এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নয়ন বিশ্বাস বিভিন্ন আইনের আওতায় আপসযোগ্য মামলার পরিধি ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন:

  • বিশেষ অতিথি: চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান

  • বিশেষ অতিথি: জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু

  • অন্যান্য বক্তা: অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস এবং জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ জাহারুল ইসলাম।

সভায় সাতক্ষীরা বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারক, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী এবং সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, মামলা জট নিরসন ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে লিগ্যাল এইডের এই আপস মধ্যস্থতার পরিধি আরও বিস্তৃত করা জরুরি।



এ সম্পর্কিত আরো খবর