বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের পাকা সড়কে সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গোবিন্দপুর, রামপুর ও মহিষাকান্দি গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে ডোয়াইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কৃষিজমির সেচ পাম্পের ঘর থেকে মোটর চুরি, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, মিটার ও ক্যাবল চুরির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, একই ইউনিয়নের চাপারকোনা ও ঢোলভিটি কালীতলা বাজার এলাকা থেকে পল্লী বিদ্যুতের ১০ কেভিএ ক্ষমতার দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এছাড়া গোবিন্দপুর গ্রামের বাবুর খামার থেকে ২৬টি মুরগি চুরি হয়। একই গ্রামের আশরাফুল আরেফিন, ফরিদ মিয়া ও মানিক মিয়ার সেচ পাম্প এবং বসতঘর থেকেও মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব চুরির ঘটনায় কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কষ্ট করে কেনা সেচ পাম্পের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ হারিয়ে অনেকেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এতে একদিকে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে আসন্ন বোরো আবাদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার, চোরচক্র শনাক্ত এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান আলী, ফরিদ মিয়া, রুহুল বাদশা, লিলি বেগম ও আছিয়া বেগমসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সেচ পাম্পের মোটর, ট্রান্সফরমার, মিটার ও বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরির কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বসতবাড়িতে চুরির ঘটনাও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
তারা অবিলম্বে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত চুরি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও মানববন্ধন থেকে সতর্ক করা হয়।