ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

রেকর্ড ভাঙতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

এল নিনোর ভয়াবহ রূপ নিয়ে জাতিসংঘের চরম সতর্কবার্তা


  • আপলোড সময় : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১১:৪০ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রশান্ত মহাসাগরে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত উষ্ণতা সৃষ্টিকারী প্রাকৃতিক আবহাওয়া পরিস্থিতি বা 'এল নিনো' তীব্রতর হওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরম দুর্যোগের পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বলতে থাকা ভয়াবহ দাবানল এবং হঠাৎ বদলে যাওয়া আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে এটি। আগামী মাসগুলোতে এই পর্যায়ক্রমিক প্রপঞ্চটি আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ব্যবস্থায় তীব্র প্রভাব ফেলবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জাতিসংঘের এই গুরুতর পূর্বাভাসের কথা জানা গেছে

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, দ্রুত গতিতে ঘনীভূত হতে থাকা এল নিনোর প্রভাবে পুরো বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, তীব্র খরা ও অস্বাভাবিক বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশের একাধিক দেশে চলমান ভয়াবহ দাবানল এবং দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে অস্বাভাবিক বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চলাকালেই সংস্থাটি এ আশঙ্কার কথা শোনাল। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা নিশ্চিত করেছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। পানির এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তাপ বায়ুমণ্ডলীয় ভারসাম্য নষ্ট করে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত করছে

উদ্ভূত সংকট নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে বলেন, এল নিনো এখন আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়, এটি ইতিমধ্যেই দোরগোড়া পেরিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং তাপমাত্রা হু হু করে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল প্রাথমিক সংকট মাত্র; সময়ের সাথে সাথে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে নতুন করে আগুনের ঘি ঢালবে। এল নিনোর প্রকৃতির সাথে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক সংমিশ্রণ ঘটায় তাৎক্ষণিক আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। মহাসচিব বিশেষভাবে কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো পরিবেশবান্ধব নয় এমন নতুন প্রকল্প সম্পূর্ণ বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি স্থলভাগেই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর সবচেয়ে সরাসরি ও তীব্র আঘাত আসবে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর ওপর

সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো জানান, কেবল পূর্বাভাস দিয়ে কোনো ক্ষয়ক্ষতি থামানো সম্ভব নয়। মানবসমাজ ও সরকারগুলোকে পূর্বাভাস বুঝে বাস্তবভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রয়োগ ঘটাতে হবে। গবেষক ও বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছাবে এবং এর তীব্রতা পূর্বের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে। ভবিষ্যৎ বিপর্যয় এড়াতে এখনই আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতি জোরদারের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর