বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দেরখোলা গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে একই পরিবারের তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বসতঘর থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধারের পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন আর রশিদ।
উদ্ধারকৃত নিহত ব্যক্তিরা হলেন—আহাত হাওলাদার (২২), তার মা মনিরা বেগম (৫৫) এবং নানি রাশিদা বেগম (৮৫)। এদের মধ্যে নিহত আহাত হাওলাদার কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা আব্দার হাওলাদারের ছেলে। অন্যদিকে মনিরা বেগম মৃত রশিদ শেখের মেয়ে এবং রাশিদা বেগম মৃত রশিদ শেখের স্ত্রী ছিলেন। একই পরিবারের তিন প্রজন্মের তিন সদস্যের এভাবে মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বুলু বেগম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ওই বাড়ি থেকে অস্বাভাবিক ও দুর্গন্ধ বের হতে দেখে তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিতে গেলে বসতঘরের ভেতরে পচা-গলিত মরদেহ দেখতে পান। সাথে সাথে তিনি ঘটনাটি আশেপাশের মানুষকে জানান এবং কচুয়া থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার স্থান পরিদর্শন শেষে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন আর রশিদ জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মাথায় মারাত্মক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। যার কারণে প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক আলামত ও মরদেহের পচন দেখে ধারণা করা হচ্ছে যে ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটেছে। ওই বাড়িতে লোকজনের যাতায়াত বা আনাগোনা না থাকার কারণে এত বড় একটি মর্মান্তিক ঘটনা এতদিন কারও নজরে আসেনি।
কচুয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট কারণ উন্মোচনের জন্য মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে থাকা আসল রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে জোর তৎপরতা ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ।