ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব প্রতিরোধ ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মুখে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের দিনটিকে স্মরণ করে দেশজুড়ে আজ গভীর শ্রদ্ধায় পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। ২০২৪ সালের এই বিশেষ দিনে অকুতোভয় জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল। সেই গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণে রেখে সারা দেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ নানা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক দিনটি উদযাপন উপলক্ষে সারা দেশে সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিবসটির গুরুত্ব ও গভীরতা তুলে ধরে জাতীয় পর্যায়ে বিশদ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দিনভর নানা সংহতি ও স্মরণসভার আয়োজন করেছে। সকাল থেকেই দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে নির্মিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় বীরদের প্রতি গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তাঁরা অকুতোভয় জুলাইযোদ্ধাসহ দেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সাথে তাঁরা বিপ্লবে প্রাণ উৎসর্গকারী সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তিকামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও সম্মানজনক পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে দিনটিকে ঘিরে নেয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন। সকালে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘জুলাই গণঅভ্যূত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের পর বেলা ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে আন্দোলনকালীন শহীদ পরিবার ও বেঁচে থাকা জুলাইযোদ্ধাদের সম্মানিত করা হয়। ঢাকা ছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে অনুরূপ সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটির আবহ ছড়িয়ে দিতে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক, সড়কদ্বীপ ও প্রবেশমুখগুলোকে জাতীয় পতাকা, বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় সুসজ্জিত করা হয়েছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি জাদুঘর ও পার্কগুলো শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ও কারাগারে বিতরণ করা হচ্ছে উন্নতমানের খাবার। দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাতের পাশাপাশি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং স্মৃতি ধরে রাখতে উন্মোচন করা হয়েছে স্মারক ডাকটিকিট।