যুক্তরাষ্ট্র-নির্মিত টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান। দেশটির এ পরীক্ষার পর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম জাপানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, দেশটির সামরিক বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে আগাম হামলা চালানোর সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে এজিস ডেস্ট্রয়ার চোকাই থেকে জাপানের সাম্প্রতিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ এবং মে মাসে ফিলিপাইনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক মহড়ায় জাপানের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন কিম। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া এমনভাবে জবাব দেবে, যাতে জাপান অনুভব করে যে তাদের নিরাপত্তা আরও বড় বিপদের মুখে পড়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টোকিওর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওদের (জাপানকে) অনুতপ্ত করতে হবে।’ কিম আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, সেগুলো পরিচালনার উপযোগী করে জাহাজে পরিবর্তন আনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সহায়তা দিয়ে জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাপানের এ ধরনের বিপজ্জনক সামরিক পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ইন্ধন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার ধারাবাহিক সমালোচনা করে আসছে উত্তর কোরিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় এটি পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে আসা সর্বশেষ কড়া মন্তব্য।
ইতিপূর্বে কেসিএনএ একাধিক সম্পাদকীয় ও মন্তব্য প্রকাশ করে যৌথ সামরিক কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজেদের অস্ত্র উন্নয়নকে ন্যায্যতা দিতে পিয়ংইয়ং টোকিওর সামরিক আধুনিকীকরণকে একটি সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে।
সিউলের উত্তর কোরীয় অধ্যয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াং মু জিন বলেন, কিমের মন্তব্যের মাধ্যমে জাপানের পদক্ষেপগুলোকে উত্তর কোরিয়াকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি সামরিক সক্ষমতা জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরপ্রাচ্য অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল জানান, এ ধরনের বার্তা ভবিষ্যতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অথবা সমুদ্রের তলদেশে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শনের মতো সম্ভাব্য সামরিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।