দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট। তপশিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের নাম সংবলিত ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায়, যা প্রাপ্তির পরই কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থায় ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও প্রথাগত নিয়ম অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ই নির্ধারিত থাকে। অতীতে ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন সংসদীয় ব্যবস্থায় সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুর রহমান বিশ্বাস নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে পরবর্তী সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংসদীয় ভোটাভুটিতে স্বচ্ছতা আনতে জুলাই সনদে গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণসহ রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধির বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও সংবিধানে তা চূড়ান্ত যুক্ত হওয়া ও উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।