এককালের প্রমত্তা আদি বুড়িগঙ্গা সময়ের নির্মম বিবর্তনে আজ মৃত নালায় পরিণত হয়েছে। মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে যা ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ, অবাধ দখল ও অব্যাহত দূষণে তা এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, আজিমপুর থেকে রায়েরবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ ৭ কিলোমিটারের এই চ্যানেলটিতে বছরের পর বছর ধরে ফেলা হয়েছে হাজারীবাগের ট্যানারি ও বর্জ্য।
এলাকাবাসীর চরম ভোগান্তির চিত্র উঠে এসেছে স্থানীয়দের কথায়। এক বাসিন্দা জানান, নর্দমার পচা পানি জমা হয়ে বিকট গন্ধ ছড়ায়। আরেকজন বলেন, ময়লা পানির কারণে এলাকায় মশার উৎপাত সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, এক-দেড় দশক আগেও এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত এবং মানুষ গোসল করত, কিন্তু এখন পানি পুরোপুরি পচে গেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার এই আদি বুড়িগঙ্গা। অন্তত ৯০টি পয়েন্ট দিয়ে সরাসরি এতে বিষাক্ত বর্জ্য পড়ছে, যা মূল বুড়িগঙ্গার পানিকেও দূষিত করছে। পরিবেশবিদ আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, পানির গুণগত মান বিচারে একে আর জীবন্ত নদী বলা যায় না। পানির কোনো প্রবাহ না থাকায় এবং কালো কুচকুচে হওয়ায় দুর্গন্ধ কাটিয়ে এর মান উন্নত হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানিয়েছে, নদীটি রক্ষায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজউক ও জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে তারা সমন্বিত অভিযানে নামছে। আগামী গ্রীষ্মে পুরোদমে খননকাজের কথা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।
তিনি জানান, সীমানা চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ শুরু হবে। গাবতলী থেকে পাগলা পর্যন্ত বুড়িগঙ্গার পার ঘেঁষে একটি আট লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এটি ভবিষ্যতে একটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তবে গবেষকেরা মনে করছেন, ঢাকাবাসীকে সম্পৃক্ত না করলে এবং বর্জ্য ফেলা পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলে আদি বুড়িগঙ্গাকে স্বরূপে ফেরানোর লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে।