ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬,  ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাল খনন শেষে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা ফেরত দিলেন আমতলীর ইউএনও


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:৪৮ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় খাল খননের কাজ শেষে বরাদ্দের ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে তা ফেরত দেওয়ার এ উদ্যোগে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় আমতলী উপজেলায় দুটি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গত ৮ এপ্রিল কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের তিন কিলোমিটার খননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের দুই কিলোমিটার খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়।


দুটি খাল খননের কাজে ৩৯৭ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী অংশ নেন। প্রকল্পের কাজের সার্বিক তদারকি করেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করার পর অব্যবহৃত অর্থের একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।


খাল খননের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়। খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন খালের নাব্যতা ও পানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও উপকারভোগীরা জানান, খাল দুটি খননের ফলে কৃষিকাজে পানির সংকট অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে সেচের পানির সংকটে যেসব কৃষক রবি শস্য চাষে সমস্যায় পড়তেন, তারা এখন খালের পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ করতে পারবেন।


কেওয়াবুনিয়া খালের পাড়ের বাসিন্দা ও উপকারভোগী এইচএম কাওসার মাদবর ও রুবেল হাওলাদার বলেন, খালটি খননের ফলে অন্তত ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। আগে শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকদের রবি শস্য চাষে নানা সমস্যায় পড়তে হতো। এখন সেই সংকট অনেকটাই কমে এসেছে।


তারা আরও বলেন, খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের ফলে এলাকার সৌন্দর্যও বেড়েছে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য তারা সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেন।


ফখরুদ্দিন তহসিন মৃধা ও মো. রাশিমুল হক রিমন বলেন, অতীতে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় হয়ে যাওয়ার অভিযোগ শোনা যেত। তবে আমতলীতে খাল খননের কাজ শেষ করে সরকারি অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা এভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।


আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিকনির্দেশনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ অনুযায়ী খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজ শেষে বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।


আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, খাল খনন প্রধানমন্ত্রীর একটি মহতী উদ্যোগ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি খালের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।


তিনি বলেন, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় আমতলী উপজেলার দুটি খাল খননের জন্য মোট এক কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ শেষ করার পর ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।


ইউএনও আরও বলেন, এ ধরনের কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে এবং দেশের আরও ৮৩ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ মোট ৮৪ জন ইউএনওকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য ডেকে নেন। সেখানে খাল খননের সুফল, সৌন্দর্যবর্ধন এবং উপজেলা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের ভালো কাজের জন্য উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ উপজেলার উন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খাল দুটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এর সুফল দীর্ঘদিন ধরে কৃষক ও সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ের বৃক্ষগুলো পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করা গেলে পরিবেশ ও নান্দনিকতা—দুই ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর