প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে জেলা সদরের ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দিনের প্রথম ও দ্বিতীয় অর্ধে মোট আটটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত চারটি সমসাময়িক বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
প্রতিযোগিতার আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল—‘ধর্মীয় অনুশাসন না মানার মানসিকতা দুর্নীতি বিস্তারের প্রধান কারণ’, ‘অভাব নয়, সীমাহীন লোভই দুর্নীতির প্রধান কারণ’, ‘পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ই দুর্নীতি বিস্তারের মূল কারণ’ এবং ‘তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহারই পারে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে’।
দিনের প্রথম অর্ধে অনুষ্ঠিত চারটি বিতর্কে মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে শিমুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতানী ভাদড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজকে পরাজিত করে আলিপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে ঘোনা ইউনিয়ন বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ভোমরা ইউনিয়ন দাখিল মাদ্রাসাকে পরাজিত করে হযরত আবু বক্কর সিদ্দিক ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা বিজয়ী হয়।
দ্বিতীয় অর্ধের চারটি বিতর্কে সাতক্ষীরা পলাশপোল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে বাবুলিয়া জয়মতি শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলিপুর আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসাকে পরাজিত করে আহসানিয়া মিশন আদর্শ আলিম মাদ্রাসা, দ্য পোল-স্টার পৌর হাইস্কুলকে পরাজিত করে পিএন বিআম ল্যাবরেটরি স্কুল এবং সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজকে পরাজিত করে সাতক্ষীরা আব্দুল করিম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিজয়ী হয়।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম বাবলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত এবং সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন।
প্রতিযোগিতায় মূল্যায়কের দায়িত্ব পালন করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক আশরাফ হোসেন, পিয়া মন্ডল ও মো. রুবেল হোসেন। মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য আব্দুল ওহাব আজাদ। সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন কমিটির সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য রেবেকা সুলতানা, মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান, মুহা. মনিরুদ্দীন, জিএম নাজমুল আরিফ ও মো. শহীদুর রহমান। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়ানো এবং নৈতিক মূল্যবোধ, যুক্তিবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের লক্ষ্যেই এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির কারণ, এর সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিরোধের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত প্রতিযোগিতাটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এমন কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে এবং তারা ভবিষ্যতে একটি স্বচ্ছ ও নৈতিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।