ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬,  ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুর আদালতে এক বিচারপ্রার্থীর অভিজ্ঞতা: আইনি পেশার মর্যাদা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে এসে আটক যুবলীগ কর্মী অর্ণব দাস দুই আসামির ফাঁসির আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায় সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে মিলল বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড ব্রিটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ বলে নজিরবিহীন কটাক্ষ নেতানিয়াহুর বাংলাদেশে নীরব ঘাতক হয়ে উঠছে প্যারাকোয়াট হাসানের পর তাইজুলের আঘাত, চাপে অস্ট্রেলিয়া ১ হাজার শয্যায় উন্নীত হলো ঢাকার নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম: চলতি বছরে ১০৪ বার সমন্বয় ওয়েদারাল্ডের পর এবার ট্রাভিস হেডকেও বোল্ড করলেন হাসান

তাসকিনের ছক্কা ও স্মিথের অবিশ্বাস্য ক্যাচ মিস

রোমাঞ্চকর ওভারে বাংলাদেশের ২০৬ রানের লিড

মিরাজের ফিফটি


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:৪৯ এএম

ক্রীড়া প্রতিবেদক 

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচটির শেষ ভাগ নাটকীয় আর ঘটনাবহুল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে রইল। দলগত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ দল প্রথম ইনিংসে ১২৯ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ৪০৪ রানের এক বিশাল পাহাড় গড়ে তুলেছিল। ফলশ্রুতিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে ২০৬ রানের চমৎকার একটি শক্তিশালী লিড অর্জন করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ দল। তবে এই চমৎকার সংগ্রহ গড়ে তোলার পেছনের মূল আকর্ষণ ছিল ইনিংসের ১২৯তম ওভারটি, যা মাঠে উপস্থিত দর্শকদের চোখ কপালে তুলে দিয়েছিল।


১২৬তম ওভারে পঞ্চম বলে ফাঁকা মিড অনের দিকে বল মেরেই দৌড়। হয়ে গেল ১২তম টেস্ট ফিফটি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চলতি ইনিংসে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে পঞ্চাশ ছুঁলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ড্রেসিংরুম থেকে তাকে করতালিতে অভিবাদন জানালেন সতীর্থরা।


প্যাট কামিন্সের করা এই ১২৯তম ওভারের একেবারে প্রথম বলটি থেকেই রোমাঞ্চের শুরু। বলটি লেংথে পেয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বাউন্ডারির ওপারে পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশি বোলার তাসকিন আহমেদ। এই দুর্দান্ত ছক্কাটির ওপর ভর করেই টেস্টে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ৪০০ রানের ঐতিহাসিক কোঠা অতিক্রম করতে সমর্থ হয়। গ্যালারিজুড়ে তখন বাংলাদেশি সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর উল্লাস।


কিন্তু রোমাঞ্চের সেখানেই শেষ ছিল না! ঠিক তার পরের বলেই একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে আবার বাতাসে বল ভাসিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে একদম সোজা ক্যাচ উঠে যায়। সেখানে ফিল্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বিশ্বস্ত ও দক্ষ ফিল্ডার স্টিভেন স্মিথ। তবে সবাই যাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ ক্যাচ হিসেবে ধরে নিয়েছিল, ঠিক সেই ক্যাচটিই হাতের ভেতর থেকে ফেলে দিলেন স্মিথ। স্টিভেন স্মিথের মতো অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ফিল্ডারের হাত থেকে এই সহজতম ক্যাচটি ফসকে যাওয়াটা মাঠে উপস্থিত প্রত্যেকের জন্যই এক অবিশ্বাস্য ও বিস্ময়কর দৃশ্য হয়ে দাঁড়ায়।


যদি স্মিথ এই সহজ ক্যাচটি লুফে নিতে পারতেন, তবে সেটি কেবল তাসকিনের উইকেটের পতনই ঘটাত না, বরং টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম এককভাবে অমর করে রাখত। এই ক্যাচটি ধরতে পারলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি ক্যাচ সংগ্রাহক হিসেবে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার অনন্য রেকর্ডটি এককভাবে স্টিভেন স্মিথ নিজের নামে করে নিতে পারতেন। কিন্তু ভাগ্য সেদিন তাসকিনের পক্ষে আর স্মিথের বিপক্ষে কাজ করছিল। উল্লেখ্য, এই একটি মাত্র ভুলই স্মিথের প্রথম ছিল না। কারণ এর আগের দিনও ফিল্ডিং করার সময় স্মিথ আরও একটি ক্যাচ মিস করার হতাশাজনক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।


এই ওভারের নাটকীয়তা তাসকিন ও স্মিথের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ওভারের পঞ্চম বলে আবারও ক্যাচ ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এবার উইকেটে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজের তুলে দেওয়া বেশ কঠিন একটি ক্যাচ ধরতে দৌড়ে যান অস্ট্রেলীয় ফিল্ডার ট্রাভিস হেড। উল্টো দিকে দ্রুত গতিতে ছুটে গিয়ে চমৎকার ডাইভ দিয়েও বলটি লুফে নিতে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন ট্রাভিস হেড। এক ওভারের মধ্যেই এমন একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হওয়া এবং ছক্কার মহড়া ম্যাচটিতে বাংলাদেশকে মানসিকভাবে অনেক বেশি এগিয়ে দেয়। তাসকিনের সেই সাহসী ছক্কা এবং স্মিথের ক্যাচ মিসের এই ঘটনাটি ম্যাচের অন্যতম প্রধান মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর