স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুমকি উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী পীরতলা খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা অনেক অস্থায়ী দোকানের পেছনের অংশ ধীরে ধীরে ভরাট করে দোকানের পরিসর বাড়ানো হয়েছে। কেউ কেউ সেখানে স্থায়ী স্থাপনাও নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি খালে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দূষণের সঙ্গে নাব্যতা সংকটও তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের দখল ও ভরাটের কারণে বিভিন্ন স্থানে খালটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
শুধু পীরতলা খাল নয়, উপজেলার আঙ্গারিয়া বন্দর, দুমকি সাতানীর কালভার্ট বাজার, মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার ও জলিশা কদমতলা বাজারসংলগ্ন খালের পাড়ের সরকারি খাস জমিও দখলের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে কাঠ, বাঁশ ও টিন দিয়ে অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করা হয়। পরে ধীরে ধীরে এসব স্থাপনা পাকা ও স্থায়ী রূপ নেয়। এভাবে দখল বাড়তে থাকায় অনেক খাল সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খাস জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকার কথা নয়। অথচ দখলদার ও অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে উচ্ছেদের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে ভূমি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দখলদারদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দখলের কারণে সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খাল সংকুচিত হয়ে পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ে। একই সঙ্গে কৃষিকাজে স্বাভাবিক পানি প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বাজার ও খালসংলগ্ন সরকারি খাস জমির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল ও স্থাপনা চিহ্নিতকরণ এবং আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দখলদারদের কাছ থেকে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনারও দাবি তাদের।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘খালের ওপরে অবৈধ স্থাপনার তালিকা করে আমরা ডিসি অফিসে পাঠিয়েছি। সামনে যখন খাল পুনঃখননের কাজ করা হবে তখন একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে এসব অবৈধ দখলদারদের অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হবে। আশা করছি আগামী দু-এক মাসের মধ্যেই এই কার্যক্রম হাতে নেয়া হতে পারে।’
সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন, দখল ও স্থাপনার তালিকা প্রণয়ন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।