ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

১০ লাখ বাস্তুচ্যুত, নিহত ৪৩৪৬

যুদ্ধবিরতির মাঝেই লেবাননে ফের ইসরায়েলি হামলা


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:৪৮ এএম

যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও লেবাননে থামছে না ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা। আন্তর্জাতিক সব নিয়ম-নীতি ও চুক্তি উপেক্ষা করে ফের দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইল জেলার হাদাথা শহরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এতে করে অঞ্চলজুড়ে আবারও তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক যানগুলো হাদাথা শহরের ভেতরের বিভিন্ন রাস্তায় মুক্তভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। শুধু তা-ই নয়, শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে হঠাৎ স্বয়ংক্রিয় বিভিন্ন অস্ত্র থেকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে সেনা সদস্যরা। হুট করে চালানো এই হামলায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের ভূখণ্ডে ঢুকে সামরিক অভিযান চালায়। একই সাথে শহরের পশ্চিম অংশে ভারী ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাপক গোলাগুলি ও গুলিবর্ষণ করে। এ সময় ইসরায়েলি সামরিক গাড়ি ও সাঁজোয়া যানগুলো শহরের ভেতরে টহল দিতে দেখা যায়, যা চলমান যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।


এর আগে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও তা কার্যকরে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইসরায়েলি আগ্রাসন। মূলত চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে লেবাননের ভূখণ্ডে ব্যাপক পরিসরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বিমান হামলার পাশাপাশি দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয়ে তারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।


দীর্ঘদিন ধরে চলা এই হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বহু ঘরবাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো। এতে লেবাননের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। লেবানন সরকার জানিয়েছে, সে সময় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও সংঘাতের মুখে প্রাণ বাঁচাতে নিজের ভিটামাটি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেখানে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়।


পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে গত ১৭ এপ্রিল লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। তবে পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে দফায় দফায় এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি বহাল থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। কারণ যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিয়মিত লেবাননের আকাশে অনুপ্রবেশ এবং হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।


সম্প্রতি গত ১৫ আগস্ট ভোরেও লেবাননের একাধিক স্থানে আকস্মিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। এসব হামলায় বেসামরিক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ক্রমাগত বাড়ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে দেশটিতে শুরু হওয়া ইসরায়েলি ধারাবাহিক বিমান ও সামরিক হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও বারবার এ ধরনের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরণের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর