রাজধানী ঢাকায় নারী যাত্রীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও হয়রানিমুক্ত করতে একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী ও পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। চলতি সপ্তাহের আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ 'মহিলা বাস' সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হবে। এই বিশেষ বাস সেবার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টি নন্দন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বাসের চালক (ড্রাইভার) এবং কন্ডাক্টর হিসেবে শুধুমাত্র নারীরাই দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নারীদের যাতায়াতকে আরও বেশি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে এই সেবা চালু করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ গোলাপি রঙের এই বিশেষ বাসগুলোতে কেবল নারী যাত্রীরাই যাতায়াত করার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার সফলভাবে বাস্তবায়নের একটি অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক অংশ হিসেবে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মূলত কর্মজীবী নারী, ছাত্রী ও সাধারণ নারী পথচারীদের সড়কে হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি দেশের বিশাল পরিবহন খাতে নারীদের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও তাদের সার্বিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ বাস সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন শেষে বাসগুলো নির্ধারিত রুটে নিয়মিত চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ এই মহিলা বাস সার্ভিসে নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টরদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। বাসগুলোর দৃষ্টিনন্দন গোলাপি রঙ দূর থেকেই নারীদের জন্য নির্ধারিত এই বাসকে সহজে চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। রাজধানী ঢাকার মতো জনবহুল ও ব্যস্ত শহরের গণপরিবহনে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী যাত্রী নানান ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
ভিড় ঠেলে বাসে ওঠা কিংবা হয়রানির ভয়ে অনেক নারীই স্বাভাবিক যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হন। সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ নারী যাত্রীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সমাধান আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ নারী যাত্রীরা। ভবিষ্যতে এই সার্ভিসের ব্যাপ্তি ঢাকার অন্যান্য রুটেও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।