ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

একই পরিবারের চার জনের মুত্য

কলকাতায় হোটেলে আগুন, নিহত ৯; ৮ জনই বাংলাদেশি


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:৫৭ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। তবে এখনো নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।


মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুন লাগে। ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হোটেলটিতে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


পুলিশ জানিয়েছে, রাত ২টা ৭ মিনিটের দিকে হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সঙ্গে দ্রুত ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় হোটেলের ভেতরে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।


ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা বাসিন্দাদের অনেকের চিৎকার ও ছোটাছুটিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। জীবন বাঁচাতে অনেকে দ্রুত বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ার কারণে অনেকেই কক্ষ থেকে বের হতে পারেননি। এ সময় কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।


আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে একটি বিপর্যয় মোকাবিলা দলও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। দমকলকর্মীরা হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে আটকে পড়া বাসিন্দাদের বের করে আনার চেষ্টা করেন।


প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এ সময় হোটেলের একটি অংশ পুড়ে যায়। উদ্ধার অভিযানে ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে জীবিত বের করে আনা হয়।


দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অচেতন অবস্থায় নয়জনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তাদের সবাইকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডে আহত কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত ছয়জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।


বাংলাদেশ দূতাবাস আট বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহতদের অনেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। নিহত অপর একজনকে ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।


প্রাথমিক তদন্তে হোটেলটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


এ ঘটনায় কলকাতা পুলিশ মামলা করেছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে হোটেলটি ঘিরে রেখে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।


একজন পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, হোটেলের ভেতরে ঘন ধোঁয়া থাকায় দমকলকর্মীদের জন্য সিঁড়ি দিয়ে ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে উদ্ধারকারী দল আটকে পড়াদের বের করে আনার কাজ চালিয়ে যায়।


পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধারকাজ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল। পরে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়েছে।


কলকাতার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে রাজ্যটিতে এটি দ্বিতীয় বড় হোটেল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।


এর আগে ১৭ আগস্ট ভোরে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠের ‘হোটেল বিদেশিনী’তে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যু এবং ১৩ জন আহত হন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পাঁচতলা হোটেলটির নিচতলায় আগুন লাগে। সে সময় অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘুমিয়ে ছিলেন।


তারাপীঠের ওই ঘটনায় মেঘালয়ের একই পরিবারের দুই শিশুসহ পাঁচজন সদস্য নিহত হন। ঘটনার পর ওই দিন রাতেই হোটেলের মালিক ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর দুই দিনের মধ্যেই কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হলো।


এ সম্পর্কিত আরো খবর