ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন। এ ঘটনায় নিহত আরও কয়েকজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন এবং তাদের ছেলে শর্ণশিষ দত্ত। একই ঘটনায় দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর আকরাম আলীও প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহত অপর বাংলাদেশির নাম আহমেদ বাবু। তার বাড়ি ঢাকার আমিনবাজারের বেগুনবাড়িতে। অগ্নিকাণ্ডে তারও মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত একজন ভারতীয় নাগরিকের পরিচয়ও জানা গেছে। তিনি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ান।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান জানিয়েছেন, দেবাশীষ দত্ত চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন অসুস্থ ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট তারা ভারতে যান। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন আফসানা। সেখানে চিকিৎসা শেষ করার পর তারা কলকাতায় আসেন।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় আসার পর দেশে ফেরার আগে তারা একটি হোটেলে অবস্থান নেন। কিন্তু সেখানেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়েন তারা। আগুনে একই পরিবারের তিনজনসহ চার স্বজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
কলকাতার ব্যস্ত এলাকায় হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন অংশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এতে হোটেলে অবস্থানরত ব্যক্তিদের অনেকে আটকা পড়েন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকার তথ্য পাওয়ার পর কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন তাদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু করে।
দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবরে কুষ্টিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সাংবাদিক মহলেও এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়া পরিবারটির কলকাতা সফর শেষ পর্যন্ত এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পরিণত হবে, তা তারা কল্পনাও করেননি। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই আগুনে তাদের প্রাণহানি ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রমও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।